মানবপাচার রোধে আইন কঠোর করার পরামর্শ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৬ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২১
ফাইল ছবি

মানবপাচার রোধে বিদ্যমান আইন আরও কঠোর করার পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। কমিটি এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলতে বলেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই পরামর্শ দেওয়া হয়।

কমিটির সভাপতি মুহম্মদ ফারুক খানের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক খন্দঃ প্রিন্স, মো. আব্দুল মজিদ খান, মো. হাবিবে মিল্লাত, নাহিম রাজ্জাক এবং কাজী নাবিল আহমেদ অংশ নেন।

জানা গেছে, অবৈধভাবে ইউরোপীয় দেশে যেতে গিয়ে লিবিয়া থেকে ফেরত আসা ৩৫ ব্যক্তির জবাববন্দির বিষয়টি কমিটিকে অবহিত করে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, তাদেরকে কোয়ারেন্টাইনে রেখে তথ্য আদায় করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, প্রত্যেকে ১০/১২ লাখ টাকা করে দিয়ে তুরস্ক ও লিবিয়া হয়ে ইতালি, জার্মানি বা ইউরোপের অন্য কোনো দেশে যেতে চেয়েছিল। তাদের অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানো ৪/৫ জন ব্যক্তিরও নাম বলেছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ফারুক খান এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, যারা এভাবে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা ধরা পড়ে দেশে ফিরলে আমরা তাদের ছেড়ে দেই। এটা না করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হলে এভাবে কেউ যাওয়ার সাহস পাবে না। এজন্য আমরা মন্ত্রণালয়কে বলেছি অসত্য তথ্য দিয়ে যারা বিদেশ যায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে আইনের বিধানগুলোকে আরও শক্ত করার পরামর্শ দিয়েছি।

প্রস্তাবিত মেরিটাইম জোন আইন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেবে সংসদীয় কমিটি

সংসদে উত্থাপিত মেরিটাইম জোন আইন নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেবে সংসদীয় কমিটি। এ লক্ষ্যে বৈঠকে একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংসদীয় কমিটির সভাপতি মুহম্মদ ফারুক খানকে এ সাব কমিটির সদস্য করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স ও নাহিম রাজ্জাক। সাব-কমিটিকে চলতি মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে।

মুহম্মদ ফারুক খান এ বিষয়ে বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন। বঙ্গবন্ধুর সময়কার এই আইনটি যুগোপযোগী ও আধুনিক করতেই এই আইনটি আনা হয়েছে। এজন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলবো। আমরা সংসদের লেজিসলেটিভ উইং, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, আর্ম ফোর্সেস ডিভিশন, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে আইনটির রিপোর্ট চূড়ান্ত করবো। সংসদের আগামী অধিবেশনে যাতে পাস করা যায় তার জন্য সংসদের বৈঠকের প্রথমদিনই চেষ্টা করবো প্রতিবেদন উত্থাপন করার।

জাতিসংঘের মহীসোপান নির্ধারণসংক্রান্ত কমিশনে (সিএলসিএস) বাংলাদেশের দাবির প্রেক্ষিতে ভারত যে আপত্তি তুলেছে তার প্রসঙ্গ টেনে কমিটির সভাপতি বলেন, আমাদের এই আইনটির সংশোধনী না থাকার কারণে তারা এই দাবিটি তুলতে পেরেছে। আইনটি থাকলে তারা হয়তো পারতো না।

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- বৈঠকে ‘টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১’ বিলটি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য তিন সদস্যের একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়। সাব-কমিটি অক্টোবর, ২০২১ এর মধ্যে প্রতিবেদন প্রদান করবে।

এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সংসদে ‘টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১’ সংসদে উত্থাপন করা হলে তা ৪৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

সংসদে উত্থাপিত বিলটি আইনে পরিণত হলে অভ্যন্তরীণ জলসীমা ও রাষ্ট্রীয় জলসীমা, ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানে সমুদ্র সম্পদের ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

বিলে জলদস্যুতা, সশস্ত্র চুরি, সমুদ্র সন্ত্রাস নিয়ে জেল-জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় জলসীমায় চলাকালে কোনো বিদেশি জাহাজে অপরাধ সংগঠিত হলে অপরাধী গ্রেপ্তার ও তদন্ত পরিচালনায় এ আইন প্রযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এইচএস/এসএইচএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]