সাম্প্রদায়িকতা দূর করতে আন্তঃধর্মীয় শিক্ষায় জোর দেওয়ার আহ্বান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৫৪ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২১

ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করতে আন্তঃধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। অনলাইন যুব সম্মেলনে তারা বলেছেন, মহান স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে যে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ গঠিত হয়েছিল, দেশের স্বাধীনতাবিরোধী কুচক্রীমহল সাম্প্রদায়িকতার প্রথম বীজ বপন করেছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের বেশি সময় এদেশে ওই কুচক্রীমহল তাদের বিকৃত রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করেছে।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন অধিকারকর্মী মনিরুজ্জামান মুকুল। আলোচনায় অংশ নেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু, ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সাইন্সের জাহাঙ্গীর হোসেন, সাংবাদিক নিখিল ভদ্র, ব্যাপ্টিস্ট মিশনের ধর্মযাজক নৃপেন বৈদ্য, উন্নয়নকর্মী মঞ্জুরুল ইসলাম, পার্লামেন্ট নিউজের সাকিলা পারভীন, ইসলামিক রিলিফের রাফিউল চৌধুরী, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট আনন্দ রাজবংশী, পিএইচডি গবেষক (অপরাধ বিজ্ঞান) নাজনীন শবনম এবং তরুণ প্রতিনিধিদের মধ্যে ঢাকা থেকে ফরিদুল ইসলাম, কক্সবাজার থেকে মালেক সরকার, বরিশাল থেকে এথিনা বল্লবি ও খুলনা থেকে রিয়াদ হোসেন।

যুব সম্মেলনে শামসুল হক টুকু বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সারাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা চালানো হচ্ছে। তবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কাছে কুচক্রীমহল কোনোভাবেই সফল হতে পারবে না। ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। একইসঙ্গে আমাদের সবাইকে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সম্প্রীতির বাংলাদেশে মাদক ও জঙ্গিবাদের ঠাই নেই উল্লেখ করে সাবেক প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, বঙ্গবন্ধু এদেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা লিখেছিলেন। সব নাগরিকের সমঅধিকারে কথাও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সংবিধানকে সমুন্নত রাখতেই সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের তরুণ সমাজকে উজ্জীবিত করে সচেতন ও দক্ষ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য মাদক ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

সম্মেলনে বক্তারা শিশুদের নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। আন্তঃধর্মীয় শিক্ষাকে জোরদারের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, বিদ্যালয়ে শিশুদের নিজ নিজ ধর্মীয় বা নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি শ্রেণীকক্ষে সপ্তাহে কিংবা মাসে অন্তত একদিন সব ধর্মাবলম্বী শিশুদের একসঙ্গে আন্তঃধর্মীয় বিষয়ে আলোচনা হওয়া জরুরি। এর ফলে সবাই সব ধর্মের মূল বাণী যেমন জানতে পারবে একইসঙ্গে একে অন্যের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে গড়ে উঠবে। সুষ্ঠুধারার সংস্কৃতি চর্চার প্রসার এবং এলাকার জনপ্রতিনিধিদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

এইচএস/এমআরআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]