পরিবেশ দূষণে জরিমানার টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়ার সুপারিশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১৫ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২১
ফাইল ছবি

পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা জরিমানার টাকা দূষণে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

কমিটি বলছে, জরিমানার টাকা সরকারি কোষাগারে যায়। সে টাকা পরিবেশ দূষণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ব্যয় করে তাদের পাশে দাঁড়ানো যেতে পারে।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটি সদস্য পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, তানভীর শাকিল জয়, জাফর আলম, মো. রেজাউল করিম বাবলু, খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন এবং শাহীন চাকলাদার অংশ নেন।

বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর দূষণকারীদের বিরুদ্ধে সবসময় ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাদের কাছ থেকে জরিমানাও আদায় হচ্ছে। কিন্তু দূষণের কারণে যারা ক্ষতির শিকার হচ্ছে তাদের জন্য কিছু করা হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, কোনো কারখানা যদি নদীদূষণ করে তবে সে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমরা জরিমানা আদায় করছি। কিন্তু ওই দূষিত নদীর পানি ব্যবহার করে অনেকের চর্মরোগসহ নানা ব্যাধি হচ্ছে। কমিটি মনে করে, এ ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা ব্যয় জরিমানার অর্থ থেকে দেওয়া গেলে ভালো হয়। তাহলে তাদের পাশে দাঁড়ানো হয়।

মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির এ সুপারিশের সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে জানিয়ে সাবের হোসেন বলেন, জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে যাচ্ছে। সরকার জনগণের জন্যই কাজ করে। যে জরিমানা আদায় হচ্ছে সেটা ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য খরচ করা হলে ভালো হয়।

এদিকে সোমবারের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সাভারের চামড়া শিল্পনগরী বন্ধ নিয়ে আবারও আলোচনা হয়। এর আগে গত ২৩ অগাস্ট পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে না হওয়ায় সাভারের চামড়া শিল্পনগরী ‘আপাতত বন্ধ রাখার’ সুপারিশ করে।

কমিটির সুপারিশের পর পরিবেশ অধিদপ্তর বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) কাছে চিঠি দেয়। চামড়া শিল্পনগরী ‘কেন বন্ধ করা হবে না’, তা বিসিকের কাছে জানতে চায় সংসদীয় কমিটি।

কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন বলেন, আমরা যে সুপারিশ করেছিলাম তা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় তৎপর। এ বিষয়ে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, মন্ত্রণালয় তা জানিয়েছে। বিসিক বলছে, তারা এ বিষয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কার্যক্রম গ্রহণ করবে। আমরা বলেছি, ভবিষ্যতে কী করবে সেটা পরের বিষয়, এ মুহূর্তে যে দূষণ হচ্ছে সেটা বন্ধ করতে হবে। ক্রোমিয়াম ট্রিটমেন্টের প্লান্ট নেই। এগুলো করতে হবে। যাদের জরিমানা করা হয়েছে, সেগুলো আদায় করতে হবে।

এইচএস/এমকেআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]