দুই বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতি ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০২ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২১

চলতি বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক ক্ষতি ৩৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান। সড়ক দুর্ঘটনায় ২০১৯ ও ২০২০ সালে ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি জানিয়ে তিনি বলেছেন, এই টাকায় বেশ কয়েকটি পদ্মা সেতু বানানো সম্ভব।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ইনিশিয়েটিভ (বিআই) ও ড্রাইভার্স ট্রেনিং সেন্টার (ডিটিসি) যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে।

অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, পুলিশের তথ্যমতে ২০১৯ সালে তিন হাজার ৯৩৭টি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এতে মারা গেছেন চার হাজার ৩৫৮ জন। আহত হয়েছেন আট হাজার ২৪০ জন। ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক ক্ষতি ৩৮ হাজার কোটি টাকা। যা আমাদের জিডিপির দেড় শতাংশ। ২০২০ সালে এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সড়ক দুর্ঘটনার ২৫ শতাংশ হয় অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর এই তিন মাসে। সড়কে কুয়াশা থাকার কারণে দুর্ঘটনাও বেড়ে যায়। এই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে পরিমাণ দুর্ঘটনা ঘটেছে তার অর্থনৈতিক ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। তার মানে বোঝা যাচ্ছে, চলতি বছরের সড়ক দুর্ঘটনার আর্থিক ক্ষতি ২০১৯ কেও ছাড়িয়ে যাবে।

মো. হাদিউজ্জামান বলেন, বুয়েটের গবেষণা বলছে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০ বছরের নিচে তরুণ প্রজন্মের মৃত্যুহার বেশি। কারণ তরুণদের বেশিরভাগই মোটরসাইকেল আরোহী। আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিড্যান্টের সুযোগ হারিয়ে ফেলেছি। সড়ক দুর্ঘটনার কারণে অপার সম্ভাবনা আমরা হারিয়ে ফেলেছি।

গবেষণা বলছে, মোটরসাইকেলে দুর্ঘটনার পরিমাণ ২০১৯ সালে ছিল ২০ দশমিক ২ শতাংশ। সেটা এখন ২৩ শতাংশে চলে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে ক্যান্সারের সেলের মতো এই যানের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু মোটরসাইকেল চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। ২০১৬ সালে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল আট লাখ ২০২০ সালে, সেটা ৩২ লাখে দাঁড়িয়েছে। চার বছরে মোটরসাইকেলের সংখ্যা চারগুন বেড়েছে।

সংলাপে সভাপতির বক্তেব্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, আমরা সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছি সড়কে ২০০ অধিক দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা আছে, বাঁক আছে। সেগুলো ঠিক করতে হবে। এগুলোর মধ্যে মাত্র ১২টা ঠিক করা হয়েছে। এগুলো ঠিক করতে মাত্র সাড়ে ৮০০ কোটি টাকা লাগে। এগুলো সরকার দিতে পারে না কিন্তু ব্যাংকগুলো থেকে হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে যায়, সেই টাকা উদ্ধার করতে পারে না।

তিনি বলেন, এই স্পটগুলো ঠিক করলে সড়ক দুর্ঘটনা একবাক্যে ৪০ শতাংশ কমে যায়। সড়ক দুর্ঘটনার ১০৫টা কারণ আছে। মাত্র ৪টা কারণের জন্য দায়ী চালক। অথচ দুর্ঘটনা ঘটলে প্রমাণ না হওয়ার আগেই চালককে দোষী, ঘাতক বলা হয়। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।

ড্রাইভার্স ট্রেনিং সেন্টারের চেয়ারম্যান নুরনবী শিমু বলেন, বিআরটিএ’র মাত্র ২০০ জন প্রশিক্ষক আছেন। সরকার ১৪০০ প্রশিক্ষক তৈরির প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে ৮০০ প্রশিক্ষক তৈরি হয়েছে।

সংলাপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী তাসমিমা বলেন, নারীদের সড়কে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। ধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না। চালক, সহকারীদের তথ্য লিপিবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। আবার বাসগুলোর কাচ বিজ্ঞাপনে আচ্ছাদিত থাকে। এসব বিষয় সমাধানে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মোটর ড্রাইভিং ইন্সট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল বাশার, ড্রাইভার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাদল আহমেদ প্রমুখ।

এসএম/ইএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]