প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নানা বৈষম্যের শিকার: টিআইবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৮ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২১

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও তারা এখনো নানা বৈষম্যের শিকার বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) টিআইবি কার্যালয় থেকে ‘সরকারি সেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অভিগম্যতা: জবাবদিহি ব্যবস্থার বিশ্লেষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে গবেষণাপত্রে এসব তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষক গোলাম মোস্তফা।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (গবেষণা ও পলিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

গবেষণাপত্রে বলা হয়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সস্পর্কে সুনির্দিষ্ট উপাত্তের অনুপস্থিতি তাদের প্রতি উদাসীনতা ও অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ এবং তাদের মূলধারায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরকারি সেবা ও জবাবদিহি ব্যবস্থা সর্ম্পকে প্রচারে ঘাটতি বিদ্যমান। আবার আইনি সীমাবদ্ধতা বা আইনের অনুপস্থিতি, আইনের যথাযথ প্রয়োগে ব্যর্থতার কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সেবায় অভিগম্যতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয় থাকে। বিষয় হলো বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান জবাবদিহি কাঠামো অনেক ক্ষেত্রে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়। কারণ এক্ষেত্রে তাদের ভাষাগত দক্ষতা, আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সামর্থ্য ইত্যাদি সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

আরেকটি বিষয় হলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের নেতিবাচক মানসিকতা ও চর্চা, অভিযোগ দাখিলে প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়া বরং বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হওয়ার কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী জবাবদিহি কাঠামো ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হন। সর্বোপরি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক সেবা নিশ্চিতে জবাবদিহি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা না হলে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের ‘কাউকে পেছনে না রাখা’ লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে। এজন্য ১০টি সুপারিশ করে টিআইবি।

সুপারিশগুলো হলো:
১. বিভিন্ন সেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে বাধা দূর করতে এবং বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে বৈষম্য বিলোপ আইন দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে।
২. সব প্রান্তিক গোষ্ঠীর ভৌগোলিক অবস্থান ও জনসংখ্যা সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং তা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে।
৩. সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা ও জবাবদিহি ব্যবস্থা সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ে এবং সব গণমাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের ভাষায় যথাযথ এবং নিয়মিত প্রচার পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। প্রচার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট বেসরকারি অংশীজনদের সম্পৃক্ত করতে হবে।
৪. সেবা সংক্রান্ত অভিযোগ কাঠামো প্রান্তিক জনগোষ্ঠী-বান্ধব করার জন্য সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী থেকে মৌখিক অভিযোগ গ্রহণ ও তা লিপিবদ্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে এবং সমাধানে নিয়মিত ফলোআপ করতে হবে।
৫. সরকারি প্রতিষ্ঠানের গণশুনানিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যা নিয়ে আলাদা সময় বরাদ্দ করতে হবে এবং তাদের সমস্যা প্রকাশে উৎসাহিত করতে হবে।
৬. সমতলের আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা দূর করতে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আদিবাসীদের দিয়ে নিয়মিত গণশুনানি করতে হবে।
৭. প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকার সেবা প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারীদের সেবাপ্রদানকারী হিসেবে নিয়োগ বা পদায়ন করার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিতে হবে।
৮. স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিতে সংরক্ষিত প্রতিনিধিত্ব/সদস্যপদ তৈরি করতে হবে।
৯. সংবিধান প্রতিশ্রুত অন্তর্ভুক্তি, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সম্পর্কে সেবা প্রদানকারীদের মানসিকতা এবং চর্চায় পরিবর্তন আনতে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
১০. চলমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়াতে করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনের সমন্বয়ে নিয়মিত মূল্যায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।

এইচএস/এমএএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]