জন্ম নিয়ন্ত্রণ না করায় রোহিঙ্গা পরিবারের পরিসর বেড়ে যাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১০ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২১

জন্ম নিয়ন্ত্রণ না করায় লাগামহীনভাবে রোহিঙ্গাদের পরিবারের পরিসর বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) সচিবালয়ে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) সমন্বয়, ব‍্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্মহার, আপনারা সেটা দেখেছেন। লাগামহীনভাবে এদের ফ্যামিলির (পরিবার) পরিসর বেড়ে যাচ্ছে। জন্মহার নিয়ন্ত্রণ ও নতুন জন্ম নেওয়া রোহিঙ্গাদের তালিকাভুক্তিকরণের বিষয়টি আলোচনায় আসছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ভাসানচরে ডিসেম্বর থেকে স্বল্প সময়ের মধ্যে আমাদের যে টার্গেট এক লাখ রোহিঙ্গা নিয়ে যাওয়ার, সেটা আমরা জোরদার করবো। যাতে ডিসেম্বর থেকে শুরু করে এক লাখ রোহিঙ্গা তারপর আরও অবশিষ্ট অংশ সেখানে নেবো। তাদের থাকা, নিরাপত্তা, আসা-যাওয়ার জন্য যা যা লজিস্টিক সাপোর্ট দরকার সেগুলো সেখানে প্রতিষ্ঠিত হবে।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, মিয়ানমার থেকে অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও মানবপাচার রোধে প্রয়োজনে সীমান্তে গুলি চালানো হবে। বিষয়টি নিয়ে আপনার সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। সেই বিষয়টি আজকের সভায় এসেছিল কিনা- জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান বলেন, সীমান্তে গোলাগুলির আমাদের কোনো উদ্দেশ্য নেই। কেউ যদি সীমান্তের নিয়ম ভাঙে তখন বিজিবি ব্যবস্থ্যা গ্রহণ করে। কেউ যদি ফায়ার ওপেন করে, বিজিবিও পাল্টা ফায়ার ওপেন করে। নিরপরাধ লোককে ফায়ার করা বিজিবির কর্ম নয়। বিজিবি যদি দেখে কেউ ফায়ার করছে, তখন তারা পাল্টা ফায়ার করে। এখানে ফায়ার করার জন্য বিজিবি নয়, বিজিবি সীমান্ত রক্ষা করার জন্য। সীমান্ত রক্ষা করার জন্য যা যা প্রয়োজন, বিজিবিকে সেটা করার জন্য ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কাজেই নতুন করে আদেশ-নির্দেশ সেখানে বিজিবির জন্য দেওয়া হয়নি।

মুহিবুল্লাহ হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত প্রায় সবাই গ্রেফতার
রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের অগ্রগতি জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এত বড় জনগোষ্ঠী থাকলে সহিংসতা থাকতেই পারে। কিন্তু মুহিবুল্লাহর ব্যাপারটা আমাদের আঘাত করেছে, আহত করেছে। মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সোচ্চার ছিল। কী উদ্দেশ্যে সে নিহত হলো, সেটার এখনো তদন্ত হচ্ছে। আমরা বেশ কয়েকজনকে ইতোমধ্যে আটক করেছি। যাদেরকে আটক করা হয়েছে তারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে আমরা নিশ্চিত। আমরা মনে করছি এদের সঙ্গে কথাবার্তার পর সমস্ত ঘটনা আপনাদের জানিয়ে দেবো।

অপর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মুহিবুল্লাহর হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের প্রায় সবাইকে আমরা ধরে ফেলেছি। খুনের মোটিভটা কী ছিল, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর আমরা জানতে পারবো। আমাদের নিরাপত্তায় কোনো দুর্বলতা নেই।

আরএমএম/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]