সড়ক নিরাপদে ৬৭ লাখ চালককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:১৬ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২১

রাজধানীসহ সারাদেশের সড়ক নিরাপদ করতে হলে কমপক্ষে ৬৭ লাখ চালককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অবহেলার কারণে এই করোনাকালেও সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্য সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকেও এগিয়ে আসতে হবে এবং এই খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সংলাপ’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইনিশিয়েটিভ (বিআই) ও ড্রাইভার্স ট্রেনিং সেন্টার (ডিটিসি) যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।
সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সংলাপের সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক পার্থ সারথি দাস। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিটিসি চেয়ারম্যান নুর নবী শিমু।

সংলাপে বক্তারা বলেন, ড্রাইভিং সেক্টরে যদি শিক্ষিত জনগোষ্ঠী না আসে এবং চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা না হয় তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা কখনোই সম্ভব না। আমাদের দেশে গাড়িচালক তৈরি হয় তার ওস্তাদের হাত-পা টিপতে টিপতে।

তারা আরও বলেন, এছাড়া দেশে চালকদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ নেই। চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রতিদিন চালকদের একটা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। মালিকদের দেওয়া এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে অনেক সময় বেপরোয়া গাড়ি চালায় চালকরা, এতে দুর্ঘটনা ঘটে বেশি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার ধরন বদলেছে। মুখোমুখি দুর্ঘটনার চেয়ে পেছন থেকে আঘাতের ঘটনা ঘটছে বেশি। এতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। নভেম্বর-ডিসেম্বর ও জানুয়ারি এই তিন মাসে ২৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে।

একটি উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। গত ২০১৯ সালে ৩ হাজার ৯৩৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মারা যায় ৪ হাজার ৩৫৮ জন, আহত হয় ৭ হাজার ২৪০ জন। এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩২ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। আর চলতি বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতির পরিমাণ ২৯ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশের ২২২টি ব্লকস্পট যদি ঠিক করা হয় তাহলে দুর্ঘটনার ৪০ শতাংশই কমে আসবে। তবে আমাদের দাবি অনুযায়ী সর্বশেষ মাত্র ১২টি ঠিক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য কেবল চালকদের দায়ী করলে হবে না। পথচারীও এখানে অনেকাংশে দায়ী। ফুটপাত না থাকলে পথচারীদের ডান পাশ দিয়ে হাঁটতে হবে। এছাড়া বেশ কিছু নির্দেশনা আছে যা তারা মানেন না।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আপনারা দেখবেন চালক হয় আমাদের সমাজের সেসব মানুষগুলো যারা ছোটকালে বাবা-মা হারিয়েছে অথবা বাবা-মার বিচ্ছেদের কারণে কোনো জরাজীর্ণ অবস্থায় বড় হচ্ছে। এই মানুষগুলোই আস্তে আস্তে চালক হয়ে যাচ্ছে। তারপর তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে।

সংলাপে অংশগ্রহণ করেন, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক শহীদুল আজম, বিআরটিসির উপ-মহাব্যবস্থাপক (পরিচালন) শূকদেব ঢালী, সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিএম কামরুল ইসলাম, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের তাসনিয়া মেহরীন। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ড্রাইভারস ওয়েলফেয়ারের বাদল আহমেদ, মোটর ড্রাইভিং ইন্সট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশনের আবুল বাশারসহ প্রশিক্ষক ও চালকরা।

এমইউ/এমআরআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]