‘গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ সমর্থনে সেইভ ফিউচার বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪১ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২১

গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক সমর্থনে ঢাকায় কর্মসূচি পালন করেছে সেইভ ফিউচার বাংলাদেশ। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেয় সংগঠনটি।

এসময় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশে জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু। শিশুরা অনিরাপদ ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে। শিশুদের জীবন এবং ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে তুলছে জলবায়ু পরিবর্তন। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়ের হিমবাহ গলতে থাকায় সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রাণঘাতী দুর্যোগ ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

তারা বলেন, বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙন এবং মাটিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমুদ্রের উচ্চতা এক মিটার বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের ২০ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং ২০৫০ সালের মাধ্যে ২ কোটিরও বেশি মানুষ জলবায়ু উদ্ধাত্ত হবে। ওই সময়ে বাংলাদেশ উপকূলীয় অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জলবায়ু শরণার্থীরা অন্য জেলায় গিয়ে আশ্রয় নেবে। এতে শহরগুলো বসবাসের উপযোগিতা হারাবে।

জলবায়ুকর্মী এবং সেইভ ফিউচার বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক নয়ন সরকার বলেন, আজ বাংলাদেশ এবং বিশ্বের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন হুমকিতে ফেলছে জলবায়ু পরিবর্তন। আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলের বসবাসরতরা নিয়মিত ভুগছেন। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা নদী ভাঙনে তারা সহায়সম্বল হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে পড়ছেন।

তিনি বলেন, খাওয়ার জন্য সুপেয় পানি পাচ্ছে না। সবাই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। আসন্ন কপ ২৬-এ বিশ্বনেতাদের থেকে আমরা আর শূন্য প্রতিশ্রুতি চাই না। এই সিস্টেম উপড়ে ফেলুন। আমরা জলবায়ুর সুবিচার চাই। আমরা জলবায়ু ক্ষতিপূরণ চাই। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাই এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রিতে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাই।

jagonews24

জলবায়ু ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী মোফাজ আহমেদ বলেন, আমাদের দেশের অনেক তরুণরা এখনও জলবায়ুকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। কিন্তু বাংলাদেশের প্রত্যেক তরুণকে বুঝতে হবে যে, আমরা অস্তিত্ব সংকটে আছি। যার কারণে জলবায়ু পরিবর্তন। আমরা দিনকে দিন জলবায়ুজনিত বিপদের দিকে এগোচ্ছি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আজ চারদিকে দৃশ্যমান। সবাইকে বলব, আসুন জলবায়ুর সুবিচারের দাবিতে আমরা আওয়াজ তুলি।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন ভারত আবারও তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে, ফলে তিস্তা পাড়ের জনপদ প্লাবিত হয়েছে। তিস্তা পাড়ের জনগণের সহায়সম্বল নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। সরকারকে বলব সময় এসেছে তিস্তা চুক্তি নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করার এবং শুধু ভারতমুখী না হয়ে প্রয়োজনে অন্যান্য বন্ধু দেশগুলোর পরামর্শ ও সহায়তা নিতে হবে।

বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘটে দাবিগুলো হলো- প্রথমতো; বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি, অভিযোজন প্রক্রিয়া বাড়াতে হবে। জলবায়ু শরণার্থীদের টেকসই পুনর্বাসন করতে হবে। সুপেয় পানির স্থায়ী সমাধান করতে হবে। উপকূলজুড়ে টেকসই ব্লক বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের জীবনমান উন্নয়নে পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়াও দেশের পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল, গাছ-পালা, বন্যপ্রাণী এবং নদী, সর্বোপরি পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা করতে হবে ও সংরক্ষণ করতে হবে। প্লাস্টিক দূষণ রোধে এবং বায়ুদূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

দ্বিতীয়ত; বিশ্ব নেতাদের কাছে দাবি, প্যারিস এগ্রিমেন্ট বাস্তবায়ন করতে হবে। বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রিতে নামিয়ে আনতে হবে। কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ বুঝিয়ে দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। বাংলাদেশের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। পৃথিবী বাঁচাও,বাংলাদেশ বাঁচাও।

অবস্থান কর্মসূচিতে সেইভ ফিউচার বাংলাদেশের নেতারা ও অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এমআইএস/এমআরএম/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]