গাজীপুরে ইজিবাইক চালক হত্যার রহস্য উন্মোচন র‍্যাবের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩২ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২১

গাজীপুরের কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর ইজিবাইক চালক মো. সাইফুল ইসলামকে গলা কেটে হত্যার পর ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১। গত ১৫ অক্টোবর ময়নারটেক থেকে হরদি যাওয়ার জন্য নিহত সাইফুল ইসলামের ইজিবাইক ২০০ টাকায় ভাড়া করে। পথে হাত-পা বেঁধে ও মুখে কচটেপ লাগিয়ে ছুরিকাঘাত করে ইজিবাইক ছিনিয়ে পালিয়ে যায় চক্রটি।

গ্রেফতাররা হলেন- আজিজুল ইসলাম, মো. ইমন খান, মো. মেহেদী হাসান হৃদয় ওরফে মাসুম, বিজয় আহম্মেদ, আলাউদ্দিন ও মো. আরজু মিয়া। এসময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি, ছিনতাই করা একটি ইজিবাইক ও নিহত ব্যক্তির ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

রোববার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেনেন্ট কর্নেল আব্দল্লাহ আল মোমেন।

jagonews24

তিনি বলেন, গত ১৫ অক্টোবর দিবাগত রাতে গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার পূর্বাচল উপশহরের ২৬ নম্বর সেক্টরের ২০২ নম্বর সড়কের ৫৮ নম্বর ব্রিজের ১০০ গজ দক্ষিণে ফাঁকা জায়গায় রাস্তার ওপর সাইফুল ইসলামকে অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারী ধারালো ছুরি দিয়ে তার গলা ও পেটে জখম করে। এরপর তারা সাইফুলের ইজিবাইক ও ব্যবহৃত মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা সাইফুলকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কাছের হাসপাতালে পাঠালে পথেই তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. শাহ আলম গত ১৬ অক্টোবর বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। এরপর চাঞ্চল্যকর ঘটনার কারণে র‍্যাব-১ তখনই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে। এয়াড়াও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।

লেফটেনেন্ট কর্নেল আব্দল্লাহ আল মোমেন বলেন, গতকাল শনিবার র‍্যাব-১ এর দল ঢাকার উত্তরখান ও গাজীপুরের পূবাইল থানা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আজিজুল ইসলাম, মো. ইমন খান, মো. মেহেদী হাসান হৃদয় ওরফে মাসুম, বিজয় আহম্মেদ, আলাউদ্দিন ও মো. আরজু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, গত ১৫ অক্টোবর বিকেলে গ্রেফতার আজিজুল ইসলাম, ইমন ও পলাতক আসামি জুয়েল অটোরিকশাচালকের হাত-পা বেঁধে ও মুখে কচটেপ লাগিয়ে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগী বিজয় ও হৃদয় ওরফে মাসুমকে ফোন করে উত্তরখান থানার ময়নারটেক এলাকায় আসতে বলে। পরবর্তীতে তারা একত্রিত হয়ে ময়নারটেক থেকে হরদি যাওয়ার জন্য নিহত সাইফুল ইসলামের ইজিবাইক ২০০ টাকায় ভাড়া করে।

jagonews24

র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক আরও বলেন, ইজিবাইকটি ঘটনাস্থল পূর্বাচল উপশহরের ২৬ নম্বর সেক্টরের ২০২নম্বর সড়কের ৫৮ নম্বর ব্রিজ থেকে ১০০ গজ দক্ষিণে ফাঁকা জায়গায় রাস্তার ওপর পৌঁছানো মাত্র জুয়েল তার সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে ইজিবাইকচালক সাইফুল ইসলামের গলায় পোচ দেয়। এতে তিনি নিচে পড়ে যান। পরবর্তীতে আজিজুল তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে ও ইমন জুয়েলের ছুরি নিয়ে সাইফুলের শরীরের পেছনে দুটি করে পোচ দেয়। এতে সাইফুল গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তখন জুয়েল সাইফুলের মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। এছাড়াও ইমন অটোরিকশাটি চালিয়ে গাজীপুরের পুবাইল মিরের বাজারে দিকে পালিয়ে যায়।

গ্রেফতারদের বরাত দিয়ে লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন জানান, তারা একটি সংঘবদ্ধ অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের সক্রিয় সদস্য। এ চক্রের সদস্য ১০ থেকে ১২ জন। গ্রেফতার আলাউদ্দিন ছিনতাই চক্রের মূলহোতা। তিনি চক্রটিকে নিয়ন্ত্রণ করতো। চক্রের অপর সদস্য আজিজুল ও আরজু ছিনতাই করা ইজিবাইক ও অন্যান্য মালামাল বিক্রি করে থাকে। তারা একে অপরের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ইজিবাইক, অটোরিকশা ও প্রাইভেটকার ছিনতাই করে আসছিলো।

টিটি/এমকেআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]