জাতিসংঘ বেহেশতে নেবে না, দোজখ থেকে বাঁচাবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪১ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২১

জাতিসংঘ কাউকে বেহেশতে নিয়ে যেতে পারবে না, তবে দোজখ কিংবা নরক থেকে বাঁচাবে বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেছেন, সারা বিশ্বে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, তখন শান্তির অন্বেষায় জাতিসংঘ তৈরি হয়। জাতিসংঘ তখন বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় তার ‘আর কোথাও যুদ্ধ নয়’ কর্মসূচি হাতে নেয়। হয়তো সব যুদ্ধ জাতিসংঘ বন্ধ করতে পারেনি। কিন্তু জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ফলে এখনো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়নি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মানবতার জয়গান গাচ্ছে জাতিসংঘ। সেসব দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের অবদান অবশ্যই অনস্বীকার্য।

রবিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ঢাকাবাসী আয়োজিত জাতিসংঘ দিবস উপলেক্ষ এক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেছেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশকে নিয়ে গর্বিত। একইসঙ্গে বাংলাদেশও জাতিসংঘকে নিয়ে গর্বিত। জাতিসংঘ সব সময় আমাদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শান্তির জন্য সব সময় কাজ করে গেছেন। তিনি বলেছেন, শান্তি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। জাতিসংঘের আওতায় সব ধরনের শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে ঘেষণা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার সেই আশার বাস্তবায়ন এখন দৃশ্যমান। কারণ, বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তি মিশনে এক নম্বরে। আমাদের এক লক্ষ ৭৬ হাজার সদস্য জাতিসংঘ মিশনে বিভিন্ন দেশে কাজ করছে। সেখানে নারীরাও আছেন। শেখ হাসিনার আমলেই সেখানে নারীরা অংশ নিয়েছেন। কিন্তু শুধু কর্মী পাঠিয়েই নয়, আমরা আরও কাজ করতে চাই।

ড. মোমেন আরও বলেন, সংঘাত, মারামারি, হানাহানি, একে অপরের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ নির্মূলে শেখ হাসিনা জাতিসংঘে প্রস্তাব দিয়েছেন। এর নাম হলো শান্তির সংস্কৃতি। জাতিসংঘের ১৯৩টি দেশ শেখ হাসিনার সে প্রস্তাব গ্রহণ করে। ‘সবার উপর মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’-মানুষের মাঝে কোনো হিংসা বিদ্বেষ থাকবে না, হানাহানি থাকবে না- শেখ হাসিনার এ প্রস্তাব সব দেশ গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, তবে এ মাইন্ড সেট তৈরি করা একা সরকারের পক্ষে সম্ভব না। সে ধরনের শিক্ষক দরকার। সে ধরনের অভিভাবক প্রয়োজন। স্কুলে, মাদরাসায়, মসজিদে, মন্দিরে, প্যাগোডায়, চার্চে সেসব নেতৃত্ব প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকা আছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৪০৮ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপ-আমেরিকায় যখন যুদ্ধ-বিগ্রহ চলছে, তখন এ বঙ্গে চণ্ডীদাস গেয়ে উঠলেন- ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’। সুতরাং, আমরা বিশ্ব নেতৃত্ব দিতে চাই। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্ব নেতৃত্ব দেওয়ার যথেষ্ট যোগ্যতা আমাদের রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের যে অর্জন, তার মূলে হচ্ছে এর সদস্য রাষ্ট্র। জাতিসংঘ বাংলাদেশকে নিয়ে গর্বিত। এজন্য বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকার প্রতিষ্ঠার পরই জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাকে তখন অনেকেই বলেছিল, আপনি তো সদস্যপদ পাবেন না। তবুও তিনি দরখাস্ত করেছিলেন। দরখাস্ত করার পর অনেকেই বলেছিল, দেরি হবে। কারণ বিভিন্ন শত্রুরা তখন সক্রিয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, জাতিসংঘের সদস্যপদ আমাকে অবশ্যই অর্জন করতে হবে।

ড. মোমেন বলেন, তখন চীন ও পাকিস্তানের দোসররা আমাদের সদস্যপদ দিতে ভেটো দেয়। বঙ্গবন্ধু তখন খুব দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।

এমআইএস/এমকেআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]