ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫১ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০২১
ফাইল ছবি

করোনাকালে ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সম্মিলিতভাবে ‘ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি ও তা বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি, বেসরকারি সংস্থা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার (২৫ অক্টোবর) ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’ ও ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

আলোচনায় করোনাকালে বাল্যবিয়ের শিকার কন্যাশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে নানাধরনের সুপারিশমালা উঠে এসেছে। এরমধ্যে রয়েছে ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারের জন্য প্রণোদনা সুবিধা বাড়ানো, শিক্ষাখাতে সরকারের বাজেট শতকরা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা, সার্বক্ষণিক মনিটরিং, বিয়ের পরেও ছাত্রীর জন্য উপবৃত্তি চালু রাখা, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষাস্তর নির্ধারণ করা, সোশ্যাল সেইফটি নেট প্রোগ্রামে ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত এবং সর্বোপরি তথ্য-উপাত্তগত গ্যাপ নিরসন করা দরকার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফম বাংলাদেশের আহ্বায়ক এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য স্বাগত বক্তব্যে বলেন, স্কুলের পরিচালনা পর্ষদকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং সেই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সকল সেক্টরের মধ্যে একটা সমন্বয় ঘটাতে হবে।

child-1.jpg

বিশেষ বক্তা হিসেবে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ মাসে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে ভর্তি হয়েছে এবং সরকার জানে যে কতজন শিশু ভর্তি হয়েছে। কিন্তু সেই তথ্য সরকার আমাদের জানায়নি। এছাড়া কতজন ছাত্রছাত্রী এসাইমেন্ট গ্রহণ করেছে ও জমা দিয়েছে, সে সম্পর্কিত কোন তথ্যও আমরা পাইনি। এই সমস্যা সমাধানে সঠিক তথ্য উপাত্ত সবচেয়ে প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে করোনাকালে বাল্যবিয়ের শিকার নীলফামারির মেয়ে আদুরী এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত কিশোর তাইজুল ইসলাম তাদের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানায়।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। ওয়েবিনারে সরকার গৃহীত বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এবং মাঠ পর্যায় থেকে সরাসরি কর্ম অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব নাজমা শেখ, মাউশি পরিচালক মো. বেলাল হোসাইন, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির সাবেক পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. নান্নু মোল্লা প্রমুখ।

এমএইচএম/কেএসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]