সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে ৭ প্রস্তাব সম্প্রীতি সমাবেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৫২ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০২১

সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে সরকারকে সাত প্রস্তাব দিয়ে সম্প্রীতি সমাবেশ করেছে সম্প্রীতি বাংলাদেশ। এতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়িক ৭১টি সংগঠন ও বিশিষ্টজনেরা একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নিয়েছেন।

সোমবার (২৫ অক্টোবর) বিকেল চারটায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল।

সমাবেশে সরকারের কাছে রাখা সাত প্রস্তাবে রয়েছে- ১) সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, ২) অতীতের ঘটনার দ্রুত বিচার শেষ করতে হবে, ৩) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ঘটনা বন্ধে প্রশাসনকে আরও বেশি তৎপর হতে হবে, ৪) ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি-ঘর এবং উপাসনালয় সংস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে, ৫) মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদসহ শিক্ষাব্যবস্থায় মানবিক মূল্যবোধ ও সহনশীলতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, ৬) বাংলার সংস্কৃতিচর্চায় তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে এবং ৭) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উস্কানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সম্প্রীতি সমাবেশে সাম্প্রদায়িক হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানানোর পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিশিষ্টজনসহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

jagonews24

তারা বলেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘটে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িক দর্শন বিনষ্টের ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে আমরা উদ্বিগ্ন। যে নিরাপত্তাহীন এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব ধ্বংসের চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।

বক্তারা বলেন, হাজার বছরের সম্প্রীতির সংস্কৃতি ধ্বংস করতে পঁচাত্তরের পর থেকে চলছে পরিকল্পিত চক্রান্ত এবং আঘাত। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী শক্তির বারবার যে উত্থান ঘটছে, তা রোধ করা না গেলে দেশের গণতান্ত্রিক ও মানবিক ভবিষ্যত রক্ষা কঠিন হবে। তাই আজ প্রয়োজন প্রগতিশীল শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। একইসঙ্গে সম্প্রীতির পবিত্র বাণী প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়াও অত্যন্ত জরুরি। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য বীর শহীদেরা আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, সেজন্য শুভবোধসম্পন্ন সবাইকে একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সমাবেশে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মেলনের সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব হারুন হাবিব, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শরফুদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাছিম আখতার, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সহ-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী এবং প্রজন্ম-৭১ এর সভাপতি আসিফ মুনির তন্ময়সহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।

আরএসএম/এমকেআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]