ভোলায় সাংবাদিক নির্যাতনকারী চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১১ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২১

ভোলায় দুই সাংবাদিককে নির্যাতনের অভিযোগে সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইফতারুল হাসান স্বপন এবং তার দুই ভাই মিলন ও বাচ্চুকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফাউন্ডেশন (বিআরজেএফ)।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের মূর্তিমান আতংক ইফতারুল হাসান স্বপন চেয়ারম্যান, তার ভাই কামরুল হাসান মিলন ও নাজমুল হাসান বাচ্চুর সীমাহীন অপকর্ম ও নির্যাতনের কাছে হাজার হাজার মানুষ জিম্মি হয়ে আছে। তাদের অপকর্মের শেষ নেই। গত ৭ জুলাই স্বপন চেয়ারম্যানের ভাই মিলনের অপকর্ম নিয়ে ঢাকার জাতীয় দৈনিক আজকের আলোকিত সকাল পত্রিকায় “সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে সাংবাদিক ফরিদুল ইসলাম। ওই সংবাদের জের ধরে সাংবাদিক ফরিদুল ইসলাম ও দাউদ ইব্রাহিমকে গত ৪ আগস্ট বেলা ১১টার পর অপহরণ করে চোখে কালো কাপড় বেঁধে দিনভর বর্বরোচিত নির্যাতন করে ভোলা থানায় হস্তান্তর করা হয়।’

ঘটনার বিবরণে বক্তারা বলেন, ‘সাংবাদিক ফরিদুল ইসলাম ও দাউদ ইব্রাহিমকে গত ৪ আগস্ট বুধবার বেলা ১১টায় একটি সংবাদ সংগ্রহের মিথ্যা ফাঁদে ফেলে নতুন মসজিদ এলাকায় নেওয়া হয়। ওইদিন সকালে বাংলাবাজারের দিকে রওয়ানা হয়ে তারা বড় মোল্লা বাড়ি নামে স্থানে পৌঁছলে স্বপন চেয়ারম্যানের নির্দেশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ভাই কথিত “মিলন নেতা” একদল সন্ত্রাসী নিয়ে তাদের অপহরণ করে। এরপর কালো একটি গাড়িতে উঠিয়ে দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নে তাদের বাড়ির পাশে পার্কে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথম দফা নির্যাতন চালায় মিলন ও তার ভাই বাচ্চুসহ ক্যাডার বাহিনী। সেখান থেকে চোখ বেঁধে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় নির্জন চরে। তাদেরকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে ব্যাপক নির্যাতন চালায় সন্ত্রাসীরা। এরই মধ্যে সন্ত্রাসীরা ফোনে কথা বলে স্বপন চেয়ারম্যানের সঙ্গে। তার নির্দেশে ৩০০ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের টর্চার সেল হিসেবে পরিচিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে নিয়ে যাওয়া হয় সাংবাদিকদের। সেখানেও তাদের আরেক দফা নির্যাতন চালায় স্বপন চেয়ারম্যান। অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুই সাংবাদিক তাদের কাছে জীবন ভিক্ষা চায়। এর পরেও তারা দফায় দফায় নির্যাতন করে সাংবাদিক ফরিদুল ইসলামের বুকের হাড় ভেঙে দেয়।’

‘পরে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার দিকে ভোলা থানার পুলিশ ডেকে তাদেরকে সোপর্দ করে। নির্যাতনের শিকার অসুস্থ দুই সাংবাদিককে থানায় কোনো প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে হাজত খানায় ফেলে রাখা হয়। বহু নাটকীয়তার পর অবশেষে স্বপন চেয়ারম্যানের ভাই কামরুল হাসান মিলন বাদী হয়ে সাংবাদিক ফরিদুল ইসলাম ও দাউদ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে ২ লাখ টাকার মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে। পরে তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। ওই মামলায় তারা ১ মাস ১৮ দিন কারাগারে ছিলেন।’

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘চেয়ারম্যান স্বপন, তার ভাই মিলন ও বাচ্চুর দুর্নীতি-অনিয়ম, জুলুম নিপীড়ন, ও নারী নির্যাতনের কাছে হাজারও লোকজন জিম্মি হয়ে আছে। ক্ষমতার দাপটে কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর কেউই তাদের হিংস্র থাবা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে তরুণদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা। বিভিন্নভাবে অর্থ বাণিজ্য ও প্রতারণা, হাট-বাজারে জমি দখল, দক্ষিণ দিঘলদী/বাংলাবাজারসহ পাশের ইউনিয়নের জমি জবর দখল, নারী কেলেঙ্কারি, মাদক ব্যবসা, ভিজিডি-ভিজিএফের চাল আত্মসাৎ, ক্ষমতার দাপট, বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বাড়ির পাশের লোকজনকে জিম্মি করা, ডিস ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, সরকারি গাছপালা নিধন, জলাশয় দখল, সালিশ মীমাংসার নামে টাকা আদায়, তেঁতুলিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে কোটি টাকা কামিয়ে নেওয়া, এমন কোনো অপরাধ নেই যা তারা করে না।’ তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ও তার দোসরদের গ্রেফতারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন সাংবাদিক নেতারা।

এমআইএস/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]