জেল-জরিমানার বিধান রেখে আটিয়া বন আইন নীতিগত অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১১ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২১

জেল-জরিমানার বিধান রেখে আটিয়া বন (সংরক্ষণ) আইন ২০২১-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রীসভা। বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়৷

প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি এই সভায় অংশ নেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সচিব বলেন, আমার যতদূর মনে পড়ে এটা (আটিয়া বন) নাটোরের মহারাজাদের ছিল খুব সম্ভব অথবা রানী ভবানী এদের বংশের ছিল। কিন্তু (ব্রিটিশ) সরকার ১৯২৮ সালে বলেছে এটা পরিবেশের জন্য প্রয়োজন। ইট ইজ এ রিজার্ভ ফরেস্ট। কেউ ঢুকলে তার জেল হবে, গাছ কাটলে নন-বেলঅ্যাবল (জামিন অযোগ্য).. ওই সময় থেকেই। পরে ১৯৪৯ সালে পাকিস্তান সরকার এটা সংস্কার করে।

এরপর ১৯৮২ সালে একটি অর্ডিন্যান্স জারি করা হয় ‘আটিয়া ফরেস্ট প্রটেকশন অর্ডিনেন্স’। সেখানেও বনের কেউ ক্ষতি করলে বা ধ্বংসাত্মক কাজ করলে জামিন অযোগ্য অপরাধের মধ্যে পড়ে যাবে। সেটা যেহেতু অর্ডিনেন্স ছিল, এটা আজকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। পাঁচটা ধারা, এগুলো রিটেক করে যাওয়া হয়েছে অর্ডিন্যান্সে যা আছে সেই অনুযায়ী- যোগ করেন খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত একটা ডিজিটাল সার্ভে করার নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী কতোগুলো নির্দেশ দিয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছে- একটা ডিজিটাল সার্ভে করতে হবে ইমিডিয়েটলি। এটা আটিয়া থেকেই শুরু হোক। যেখানে যেখানে আমাদের এ রকম ফরেস্ট আছে, কতটুক এখনো ইনটেক ফরেস্ট আছে এবং কতটুকু জায়গার মধ্যে বিভিন্ন মানুষ বসবাস করে।
খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, ওইসব এলাকায় অনেক লোক বসবাস করে। এই যে লোকরা বসবাস করে তাদের স্ট্যাটাস কী এবং তাদেরকে তো এখন তোলাও যাবে না ইমিডিয়েটলি। কোথায় যাবে তারা? সুতরাং তাদেরও কিভাবে একটা সল্যুশন করা যায়। যদি তারা ফরেস্ট এরিয়াতে না থাকে তাহলে তাদেরকে কি ওইখানে সেটেলমেন্ট দেওয়া যায় কি না অথবা অন্য জায়গায় খাস জমি থাকলে শিফট করানো যায় কি না, তাদের আবাসনের একটা নিশ্চয়তা কিভাবে করা যায় এটার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বন এরিয়ার পুরোটাই বন না। যদি এমন কোনো জায়গা থাকে যেটা বনের ক্ষতি করবে না, তাহলে সেখানে রাখা যায় কি না অথবা আশপাশের কোথাও শিফট করা যায় কি না সেটা দেখতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, বিভিন্ন জায়গায় মধুপুর বন, শেরপুরের লালপাহাড় যেখানে যেখানে ফরেস্ট আছে সুন্দরবনের ওইদিকে, সেখানে অনেক মামলার অনুমোদন আছে। অনেক জায়গায় একজনের বিরুদ্ধে ৫০টা মামলা আছে। আমি নিজেও জানি, আমাদের মন্ত্রীদের অনেকে বলেছেন আজকে- আপনারা প্রয়োজন হলে পাঁচ বছরের জেল দিয়ে দেন, কিন্তু মামলা থেকে অন্তত মুক্তি দেন। ৩০টা, ৫০টা, ৪০টা বা ১০টা মামলায়ও যদি হাজিরা দিতে হয়, জীবন অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছেন এই মামলাগুলো রিভিউ করে যেগুলোর যৌক্তিকতা নেই, সেগুলো যথাসম্ভব আমরা তুলে নেবো। মানুষকে কমফোর্ট দিতে হবে। আর ব্যাপক প্রচার করতে হবে যাতে মানুষ এর মধ্যে ইনভলব না হয়।

এমএএস/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]