কপিরাইট আইনে যুক্ত হচ্ছে লোকসংস্কৃতি, নৈতিক অধিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৩৪ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২১

অজ্ঞাতনামা বা ছদ্মনামের স্বত্বাধিকারী, ডাটা বেইজড, নৈতিক অধিকার, পাবলিক ডোমেইন, ফটোগ্রাফ প্রোডিউসার, লোকজ্ঞান ও লোকসংস্কৃতি যুক্ত করে কপিরাইট আইন ২০২১-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে এবং সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা অংশ নেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আজকের বৈঠকে কপিরাইট আইন ২০২১ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ আইনে কিছু সংশোধন আনা হয়েছে। কপিরাইট আইনটা ২০০২ এর, এখন ২০২১ হিসেবে আনা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে নতুন অনেকগুলো সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কারণ অনেক কিছু আগে ছিল না।

তিনি বলেন, যেমন- অজ্ঞাতনামা বা ছদ্মনামের স্বত্বাধিকারী, ডাটা বেইজড, নৈতিক অধিকার, পাবলিক ডোমেইন, ফটোগ্রাম প্রোডিউচার বিষয়গুলো আগে ছিল না। রিলেটেড রাইট, লোকজ্ঞান ও লোকসংস্কৃতি ও সম্পাদক ইত্যাদিও যোগ করা হয়েছে।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কপিরাইটে প্রথম প্রকাশ হওয়ার পর ৬০ বছর পর্যন্ত এটা কপিরাইট থাকবে। এ ক্ষেত্রে স্বত্ত্বাধিকারী যদি মারাও যান তাহলে প্রথম দিন থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত স্বত্ত্বাধিকার পাবেন। অবৈধ সম্প্রচার বন্ধে কপিরাইট রেজিস্ট্রারকে অবহিত করলে তিনি সেটি বন্ধের ব্যবস্থা করবেন। লোকজ্ঞান ও লোকসংস্কৃতি রক্ষার জন্য এ সংক্রান্ত একটি অধ্যায় এখানে ঢোকানো হয়েছে যেটা আগে ছিল না। একইসঙ্গে শাস্তি ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে ৮০, ৯৩ ও ৯৪ ধারাতে।

এছাড়া প্রস্তাবিত আইনে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পড়ার উপযোগী করে বই প্রকাশের সুযোগ রাখা হয়েছে। যার ফলে বঞ্চিত সমাজের অনেকেই এই কপিরাইটের আওতায় আসবে। চলচিত্র ও সঙ্গীত জগতের অডিও ভিডিও কপি সুরাক্ষার জন্য আর্কাইভে সংরক্ষের শর্ত দেওয়া হয়েছে।

কপিরাইট আইনে ৬০ বছর পর স্বত্ত্বাধিকারের কি হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ৬০ বছর পর সকলের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে। উদহারণ দিয়ে তিনি বলেন, ধরুন একজন গান গাইলো সে গানের স্বত্ত্বাধিকার তার। ৬০ বছর আগে যদি অন্য কেউ সে গান গায় তাহলে তাকে আইনানুযায়ী টাকা দিতে হবে। যদি তিনি এ গানের অনুমতি দিয়ে না থাকেন।

এ আইনে শাস্তির কী ব্যবস্থা বা ধরন কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, শাস্তির জন্য তিনটি ধারা রয়েছে। এখানে অনেকগুলো বিষয়ে শাস্তি আছে। প্রতিটা বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা শাস্তির বর্ণনা করা হয়েছে।

‘যেমন, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কপিরাইট বিদ্যমান রয়েছে এমন কোনো কর্মের অধিকার লঙ্ঘনকারীর অনুলিপি তৈরি করেন তাহলে অনূধ্র্ব দুই লাখ টাকা অথবা দুই বছরের কারাদণ্ড। আর কম্পিউটার বা ডিজিটাল বা অন্যকোনো যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাহলে ২৫ হাজার টাকা অথবা তিন মাসের কারাদণ্ড। আবার কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠান যদি এমন কিছু করে তাহলে অনূধ্র্ব ৩ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এরকম ১৫ থেকে ১৬টা শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’

নতুন কী আছে এই আইনে- জানতে চাইলে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, অনেক কিছু নতুন আছে। যেমন ডিজিটাল আর্কাইভস তো ২০০০ সালে চিন্তার মধ্যে ছিল না। এরকম অনেক কিছু নতুন আছে।

বিজিএমসিকে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল
রাসায়নিক সার প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে ওভেন পলিপ্রপিলিনের ব্যাগের পরিবর্তে পলিথিন লাইনারসহ মানসম্পন্ন পাটের ব্যাগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ২০১৭ সালে আমাদের একটি সিদ্ধান্ত ছিল রাসায়নিক সার প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে পলিথিন লাইনারসহ মানসম্পন্ন পাটের ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে। সে ক্ষেত্রে বিজিএমসিকে সরকার একটা ভর্তুকি দেবে। এটা ২০১৭ সালের সিদ্ধান্ত ছিল। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পলিথিন লাইনারসহ পাটের ব্যাগ স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নয়। এ ব্যাগে সারের গুণাগুণ কমে যাবে। এরফলে শস্যের ওপর নেগেটিভ প্রভাব পড়বে। এ জন্য এ ব্যাগ আনা যাবে না। তাই মন্ত্রিপরিষদ এটা বাতিল করেছে।

অনুমোদন পায়নি ওষুধ আইন
ওষুধ আইন ২০২১ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়নি জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই আইনটাকে একটু রিভিউ করতে বলা হয়েছে। সে জন্য আজকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তাই এটা নিয়ে আর আলোচনা করতে চাচ্ছি না। রিভিউ করে আবার মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসতে বলা হয়েছে।

ওষুধ আইন ২০২১ কারা রিভিউ করবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওষুধ আইনে কিছু অবজারভেশন করতে বলা হয়েছে। আর রিভিউ করবে আইন মন্ত্রণালয়ের লিগ্যাল যারা বিশেষজ্ঞ আছেন তারা। কিছু কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নাম আগে নিয়ে আসা হয়েছে, এ বিষয়গুলো বিধিতে নিয়ে যেতে হবে। এগুলোই করতে হবে।

এমএএস/কেএসআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]