ঢাকার পর মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার চট্টগ্রাম: মোজ্জাম্মেল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৬ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২১

ঢাকার পর চট্টগ্রাম মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজ্জাম্মেল হক। বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের উত্তর কাট্টলী এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে একটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ নির্মাণের মহাপরিকল্পনা চলছে। এক মাস আগে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব জায়গা দেখে গেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছেন। বিস্তারিত আলোচনাও হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের খুবই ভালোবাসেন বলেই অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে এ বিষয়টি সম্মতি দিয়েছেন। জমিগুলো প্রতীকী মূল্যে আমাদের মন্ত্রণালয়ের হাতে ন্যস্ত করা হলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবো এবং দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। আপনাদের যে পরিকল্পনা, তা বাস্তবায়ন ও সংরক্ষণ করবো আমরা। পরে যেন মানুষের সামনে তা উপস্থাপন করা যায় সে ব্যবস্থা করবো। এখানে বড় পরিসরে বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্যও নির্মাণ করা হবে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে এমএ আজিজ, জহুর আহমদ চৌধুরীসহ অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে এমএ হান্নান স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করেন। ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতহানির বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এ মহান স্বাধীনতা। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর নির্মাণ করা হবে। স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য যে জায়গা বাছাই করা হয়েছে, সেটি অত্যন্ত চমৎকার ও নান্দনিক একটি জায়গা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের গুরুত্ব বাড়বে।

আ. ক. ম মোজ্জাম্মেল হক বলেন, ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও মুজিবনগর সংরক্ষণ করতে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু যেখান থেকে মানুষ স্বাধীনতার ঘোষণা শুনতে পেয়েছিল, সেই চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রে বিষয়ে আমাদের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। চট্টগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক স্মৃতিবিজড়িত স্থান রয়েছে, সেগুলো এখনো সংরক্ষণ হয়নি। কুচক্রী মহল যাতে ইতিহাসকে বিকৃত করতে না পারে, সেজন্য এসব স্থান সংরক্ষণ করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের অনুসারীরা ইতিহাস বিকৃত করতে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জায়গাগুলো সংরক্ষণ করবো। চট্টগ্রামবাসীর ইচ্ছা ও স্বপ্ন আমরা যাতে পূরণ করতে পারি, সেজন্য আপনারা দোয়া করবেন। শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করবেন, যাতে এ দেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যা করার দরকার, প্রধানমন্ত্রী তা করে দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধারা দেশের অতন্দ্র প্রহরী। আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু এখনো পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা ধর্মের নামে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজাণ্ডপে পবিত্র কোরআন রেখে তারা দেশে অশান্তি সৃষ্টি করছে। জাতির প্রয়োজনে আবারও আমরা রাস্তায় নামবো। স্বাধীনতা বিরোধীদের কঠোর হস্তে দমন করবো।

jagonews24

জায়গাটি পরিদর্শন শেষে প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রকল্পের বিস্তারিত বর্ণনা দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. নাজমুল আহসান। তিনি বলেন, জায়গাটি উত্তর কাট্টলী মৌজা। এখানে চারটি অবৈধ ইটভাটা ছিল। জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ করার পর আবারও দখল করে তারা। এরপর আমরা পুনরায় সমূলে উচ্ছেদ করি। মুখ্য সচিব এই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করেন। এতে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি জানিয়েছেন। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের পর এটি হবে দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. নাজমুল আহসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভায় বক্তব্য রাখেন- প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য নাহিদ ইজহার খান এমপি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ফরিদা খানম সাকী এমপি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ইদ্রিস সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমেদ ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার একেএম সরওয়ার কামাল দুলু।

মিজানুর রহমান/ইএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]