‘সাইবার অপরাধ বাড়বে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত করছি’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩৩ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০২১

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে আজ বাস্তবে নিয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ডিজিটাল বাংলাদেশের কারণে আজ অনেক কিছুই বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধের ধরন পাল্টে গেছে। ভবিষ্যতে সাইবার অপরাধ বাড়বে, সেজন্য আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত করছি।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে টেলিযোগাযোগ সেবার নিরাপদ ব্যবহার ও দেশের প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরও একধাপ এগিয়ে নিতে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের পরিচালক ড. মো. সোহেল রানা ও এনটিএমসির পক্ষে সংস্থাটির অতিরিক্ত পরিচালক (অপারেশন) মো. শাওগাতুল আলম চুক্তিপত্রে সই করেন।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রধান অতিথি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. খলিলুর রহমান, বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার এবং এনটিএমসির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান বক্তব্য দেন।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিটিআরসি কর্তৃক ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম চালু হওয়ায় মোবাইল ফোন শনাক্ত করাটা সহজ হয়েছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

টেলিযোগাযোগ সেবার পাশাপাশি বিটিআরসি গ্রাহকসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রতিনিয়ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা এনটিএমসি কাজ করে আসছে। এ দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি সমন্বয়ের মাধ্যম জনগণ ও রাষ্ট্রের অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ যারা নামের আগে ডিজিটাল শব্দটি ব্যবহার করছে। এনটিএমসির সঙ্গে বিটিআরসির সমঝোতা স্মারক সইয়ের ফলে তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কার্যক্রমে সমন্বয়ের ক্ষেত্রটা আরও গতিশীল হবে। বর্তমানে অপরাধীর অবস্থান দ্রুত শনাক্ত করাটা ডিজিটাল প্রযুক্তির ফল। ভবিষ্যতে নতুন প্রযুক্তি জনগণের কল্যাণে ব্যবহার হবে।

১২ ডিসেম্বের বাংলাদেশ ফাইভজি প্রযুক্তিতে পরীক্ষামূলকভাবে প্রবেশ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ প্রযুক্তি জাতীয় জীবনে অকল্পনীয় পরিবর্তন আনবে। তবে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি পুরো জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল বাস্তবতা সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।

প্রকৌশলী এ কে এম শহীদুজ্জামান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশর প্রধান চালিকাশক্তি হলো তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাত। তথ্যপ্রযুক্তি এবং টেলিযোগাযোগসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বিটিআরসি।

বর্তমানে দেশে ১৪ প্রতিষ্ঠান মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরই মধ্যে বাংলাদেশের শতভাগ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোসহ অপরাধ কার্যক্রমে প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে, এনটিএমসির সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের ফলে সাইবার জগৎ আরও নিরাপদ হবে এবং অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

পরবর্তী সময়ে সেন্ট্রাল বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম (সিবিভিএমপি), এএনওসি অটোমেশন অ্যান্ড আইএমইআই ডাটাবেজ (এনএআইডি) ও ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টারের (এনইআইআর) কার্যক্রম কীভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে বিশদ উপস্থাপনা করেন স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুল আলম।

এনটিএমসির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাষ্ট্রের সব সংস্থা সম্মিলিতভাবে কাজ করছে, এক্ষেত্রে বিটিআরসি এনটিএমসিকে সর্বাত্মক সহায়তা করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, এনটিএমসির ইন্টিগ্রেটেড ইনটেলিজেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা বাহিনী ও তদন্ত সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে আসছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সব সিস্টেম সমন্বিত হয়ে কাজ করলে তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং প্রযুক্তি সংক্রান্ত কার্যক্রম সহজতর হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব খলিলুর রহমান বলেন, দেশের প্রান্তিক পর্যায় মোবাইল ও তথ্যপ্রযুক্তিসেবা বিস্তৃত হওয়ার ফলে মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন হয়েছে।

সমাপনী বক্তব্যে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেরুদণ্ড হচ্ছে বিটিআরসি। ফোরজি তরঙ্গ বরাদ্দ, সীমান্ত এলাকায় টাওয়ার নির্মাণ, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে এক দেশ এক রেট চালু, মোবাইল ইন্টারনেটের ন্যূনতম গতি ১৫ এমবিপিএস ও ব্রডব্যান্ডের ২০ এমবিপিএস নির্ধারণের উদ্যোগের পাশাপাশি কোয়ালিটি অব সার্ভিস নিশ্চিতে কাজ করা হচ্ছে। যার সুফল জনগণ শিগগির পাবে। তবে একটি বিশেষ মহল ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় বিটিআরসির কার্যক্রমকে হেয়প্রতিপন্ন করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এইচএস/এমএএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]