পাকিস্তানে তৈরি, শ্রীলঙ্কা হয়ে দেশে আসছে ভারতীয় জাল রুপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:২৩ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০২১

রাজধানীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭ কোটি ৩৫ লাখ ভারতীয় জাল রুপিসহ জালিয়াতি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের গুলশান বিভাগ। পুলিশ বলছে, পাকিস্তান থেকে আমদানি করা মার্বেল পাথরের ৯৫টি বস্তার মধ্যে কৌশলে শ্রীলঙ্কা হয়ে বাংলাদেশে আসে ভারতীয় জাল মুদ্রা।

গ্রেফতাররা হলেন- ফাতেমা আক্তার অপি ও শেখ মো. আবু তালেব।

শুক্রবার মধ্যরাতে রাজধানীর খিলক্ষেত ও ডেমরা থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আসাদুজ্জামানের নির্দেশনায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি-ক্যান্টনমেন্ট জোন) ইফতেখায়রুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি-ক্যান্টনমেন্ট জোন) মো. হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

DMP-3.jpg

শনিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, খিলক্ষেতের বনরূপা আবাসিক এলাকার মেইন গেইটের সামনে একজন নারী ভারতীয় জাল রুপিসহ অবস্থান করছে এমন তথ্য পায় খিলক্ষেত থানা পুলিশ। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে ফাতেমা আক্তার অপিকে গ্রেফতার করা হয়।

এসময় তার কাছ থেকে ৫০ হাজার ভারতীয় জাল রুপি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার ফাতেমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান থানার পন্ডিতপাড়া এলাকায় তার নিজ বাসা থেকে আরও ৭ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার ভারতীয় জাল রুপি উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকা থেকে জালিয়াতি চক্রের অপর সদস্য শেখ মো. আবু তালেবকে গ্রেফতার করা হয়।

DMP-3.jpg

ডিসি গুলশান বলেন, গ্রেফতার ফাতেমা আক্তার অপি আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ ভারতীয় জাল মুদ্রা পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক চক্রের মাধ্যমে ভারতীয় জাল মুদ্রা কৌশলে সংগ্রহ করে দেশীয় চক্রের অন্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিপণনসহ ভারতে পাচার করতেন।

গত ২৩ নভেম্বর গ্রেফতার তালেব উদ্ধার করা ভারতীয় জাল মুদ্রা ফাতেমা আক্তার অপির কাছে হস্তান্তর করেন। তালেব পাকিস্তানি নাগরিক সুলতান ও শফির মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা মার্বেল পাথরের ৫০০টি বস্তার মধ্যে গোলাপি সুতা দিয়ে চিহ্নিত ৯৫টি বস্তার মধ্যে সুকৌশলে ওই ভারতীয় জাল মুদ্রা শ্রীলঙ্কা হয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।

গ্রেফতার ফাতেমা আক্তার অপির বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় আগেও জাল টাকার ব্যবসা করার মামলা ছিল।

এই ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় আসামিদের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা।

টিটি/এআরএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]