সংঘর্ষ-মামলা-বহিষ্কারাদেশের পর খুললো চমেক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১০:০৩ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০২১

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ২৭ দিন পর খুলে দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক)। শনিবার (২৭ নভেম্বর) সকালে ক্লাসের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে চালু হয় একডেমিক কার্যক্রম। একই সময়ে ছাত্রীদের হল খুলে দেওয়া হলেও বন্ধ রাখা হয়েছে ছাত্রদের হল। খোলার দিনে ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।

এর আগে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ২৯ এবং ৩০ অক্টোবর শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন। এর মধ্যে দ্বিতীয় দিনের সংঘর্ষে কলেজের সামনে মাহাদী জে আকিব নামে দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী কুপিয়ে গুরুতর আহত করে প্রতিপক্ষরা। তিনি চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় মাথার ‘মাথায় হাড় নেই, চাপ দেবেন না’ লেখা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোড়নও সৃষ্টি হয়।

এদিকে দ্বিতীয় দিনের সংঘর্ষের পর জরুরি বৈঠকে বসে প্রশাসন। ওইদিনই অনির্দিষ্টকালের জন্য চমেক বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তাদের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত মঙ্গলবার একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং হয়। সেখানে দুই গ্রুপের ৩১ ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বহিষ্কারের সঙ্গে কলেজ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বিবাদমান দুই গ্রুপই প্রশাসনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দেয়। এরই মধ্যে উভয় গ্রুপ নগরের পাঁচলাইশ এবং চকবাজার থানায় তিনটি পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেন।

জানতে চাইলে চমেক অধ্যক্ষ ডা. সাহেনা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, বিশৃঙ্খলা করায় কয়েকজন ছাত্রকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর আজ (শনিবার) শান্তিপূর্ণভাবে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আশা করছি, ছাত্ররা সতর্ক হয়ে যাবে। চমেক ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি, সভা-সমাবেশ আগেও বন্ধ ছিল, এখনো থাকবে। নতুন করে কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে আরও কঠিন ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।

ছাত্রদের হল কবে খুলে দেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হলে ছাত্রদের পূর্বে বরাদ্দ থাকা সকল সিট বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর হল খুলে দেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন চমেকে এককভাবে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী ছাত্রলীগের গ্রুপটি। নাছির চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিও ছিলেন দীর্ঘদিন। গত বছরের ২০ আগস্ট এ পদে দায়িত্বে আসেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। তখন থেকে ধাপে ধাপে চমেক ক্যাম্পাসে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে নওফেলের অনুসারী গ্রুপ। এরপর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উভয় গ্রুপ কিছুদিন পরপর সংঘর্ষে জড়াতে থাকে এবং পাল্টাপাল্টি মামলাও হতে থাকে। সর্বশেষ ২৯ এবং ৩০ অক্টোবর ঘটনার পর মোট তিনটি পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হয়।

মিজানুর রহমান/ইএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]