ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করে যে উপলব্ধি শিক্ষার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০০ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২১

রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ থেকে মেরুলের দিকে নামার সময় ব্রিজের ঢালেই হাতিরঝিল থেকে এসে মিলিত হয়েছে আরেকটি সড়ক। গাড়ির চাপ বেশি থাকায় এই মিলিত পয়েন্টে সবসময় জ্যাম লেগেই থাকে। একজন ট্রাফিক পুলিশও নিয়োজিত থাকেন এই সংযোগ পয়েন্টে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে দেখা যায়, এখানে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত স্কুলের ড্রেস পরা দুই শিক্ষার্থী। জানতে চাইলে একজন বলে, পুলিশ কিছুক্ষণের জন্য বিরতিতে গেছে, সেই সুযোগে জ্যাম লেগে গেছে। তাই আমরা এখানে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের কাজ করছি।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে আন্দোলন সমাপ্তির ঘোষণা দিলেও রামপুরা ব্রিজ এলাকায় দেখা যায়, বনশ্রী আইডিয়াল স্কুলের দুই শিক্ষার্থী হাতিরঝিল ও রামপুরা সংযোগ সড়কে ট্রাফিক পুলিশের কাজ করছে। রামপুরা থেকে আসা গাড়ি আটকে দিয়ে হাতিরঝিল থেকে আসা গাড়ি ছাড়ছে, আবার হাতির ঝিল থেকে আসা গাড়ি আটকে দিয়ে রামপুরা থেকে আসা গাড়ি ছেড়ে দিচ্ছে। কিছু কিছু গাড়ি ইশারা না মানায় তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডাও হচ্ছে তাদের।

এসময় এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের। আন্দোলনও শেষ, গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা তো ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব- এমন প্রশ্নে বনশ্রী আইডিয়াল স্কুলের দশম শ্রেণীর ওই শিক্ষার্থী বলে, পুলিশ একটু বিরতিতে গেছে। এজন্য আমি ও আমার এক সিনিয়র মিলে এখানে গাড়ি নিয়ন্ত্রণের কাজ করছি।

রাস্তায় ট্রাফিকের ভূমিকায় থেকে কী মনে হচ্ছে? মানুষ কতটুকু নিয়ম মেনে চলে? এমন প্রশ্নে ওই শিক্ষার্থীর বক্তব্য, সাধারণ মানুষ খুবই অসচেতন। সিগন্যাল মানতেই চান না। তাদের সিগন্যাল দেওয়া হলেও গাড়ির সামনে দিয়ে দৌড় দেন। এখানে উভয়েরই দোষ আছে। অনেক গাড়ির চালকও সিগন্যাল মানতে চান না। গাড়ি টান দেন।

সোমবার (২৯ নভেম্বর) রাতে রামপুরায় বাসচাপায় এক শিক্ষার্থী নিহতের পর তার সহপাঠী ও সাধারণ জনতা উত্তেজিত হয়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে ও পুড়িয়ে দেন। মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) সকালেও নিরাপদ সড়কের দাবিতে ওই এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রাস্তায় অবস্থান করেন তারা। এসময় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করেন তারা। পাশাপাশি তারা জরুরি লেন চালু করে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি পরিবহনগুলো ছেড়ে দেন।

এমআইএস/ইএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]