‘বঙ্গবন্ধু চত্বর সংলগ্ন এলাকায় পথচারীবান্ধব সড়ক করা হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১১ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০২১

বঙ্গবন্ধু চত্বর ও এর আশপাশের এলাকার অলিগলি বিবেচনায় নিয়ে পথচারীবান্ধব সড়ক পরিকল্পনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) গুলিস্তানে ময়লাবাহী গাড়ির চাপায় নিহত নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের দুর্ঘটনাস্থলে পথচারী পারাপার সেতু (ফুটওভার ব্রিজ) নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে এ কথা জানান তিনি।

মেয়র শেখ তাপস বলেন, ‘কয়েকদিন আগেই নটর ডেম কলেজের মেধাবী ছাত্র নাঈম হাসান এখানে মারা গেছেন। তিনি আমাদের গাড়ির চাপায় নিহত হয়েছেন। সে জায়গাটা আমরা পরিদর্শন করেছি। এখানে (বঙ্গবন্ধু চত্বর) যদিওবা আগে থেকেই পাতালে (মাটির নিচ দিয়ে) পথচারী চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পথচারী পারাপার বিভিন্নভাবে দখলের কারণে অকার্যকর হয়ে আছে। যার কারণে সাধারণ যাত্রী ও জনগণ নিচে নেমে পারাপার না করে রাস্তার ওপর দিয়েই পারাপার করতে বাধ্য হয়।’

‘এজন্য আমাদের নতুনভাবে চিন্তা করতে হচ্ছে। তাই পুরো বঙ্গবন্ধু চত্বর ও আশপাশের অলিগলি নিয়েই একটা সড়ক পরিকল্পনা করতে হবে, পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। না হলে কোনো উদ্যোগই এখানে কার্যকর হবে না। বঙ্গবন্ধু চত্বর ও পুরো এলাকা নিয়েই পথচারীবান্ধব সড়ক পরিকল্পনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

গুলিস্তানে আগেও অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে কিন্তু কোনোটাই ফলপ্রসূ ও কার্যকর করা যায়নি জানিয়ে মেয়র শেখ তাপস বলেন, ‘এখানে কয়েকমুখী যাতায়াত ব্যবস্থা (লক্ষ্য করা য়ায়)। প্রত্যেকটি যাতায়াত ব্যবস্থাকে কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করবো এবং আমরা নিজস্ব অর্থায়নেই সেই কার্যক্রম শুরু করবো।’

এসময় এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, আমাদেরকে বিশেষজ্ঞ মহলের মাধ্যমে পরিপূর্ণ ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট প্লানিংয়ের মাধ্যমে সুদূরপ্রসারী চিন্তা করতে হবে। শুধুমাত্র একটা কিছু করে ফেললে তা কাজে দিবে না। আমরা চাই কার্যকর ব্যবস্থা। যতোদিন যাবে এ এলাকায় যান চলাচল ততোই বাড়বে। তবে এখানে আমরা যেটাই (স্থাপনা) করি, সেটাই আমাদের মেধাবী ছাত্র নাঈম হাসানকে উৎসর্গ করবো।’

হকাররা পথচারী চলাচলের পথ দখল করে রাখে—এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র শেখ তাপস বলেন, ‘যে কোনো শহরেরই একটি বড় সমস্যা হাঁটার পথ। রাস্তাগুলো দখল হয়ে যায়। বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল ও হকাররা এগুলো দখল করে থাকে। এটাও কিন্তু সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিতে হবে। কারণ আমরা লক্ষ করেছি, হকারদেরকে একদিক থেকে উঠিয়ে দিলে, তারা নতুন করে আবার জায়গা দখল করে নেয়। তাদের পুনর্বাসনের চিন্তা করতে হবে। তাকে একটি জায়গা দিতে হবে, যেখানে সে উপার্জন করতে পারে। আমরা এগুলো নিয়ে আলাপ করছি।’

‘আমরা আশা করছি, আগামী বছর থেকে আমরা এই বিষয়গুলো খাতিয়ে দেখবো। আমরা ভাববো। আমরা বিশেষজ্ঞ মহল ও হকার প্রতিনিধি যারা আছেন, তাদেরকে নিয়ে আলাপ করবো। পর্যায়ক্রমে কিছু কিছু রাস্তাকে লাল, সবুজ, হলুদ এভাবে চিহ্নিত করে যেমন লাল, সবুজ , হলুদ এভাবে চিহ্নিত করে হকার দেরকে পুনর্বাসনের মাধ্যমে আমাদের সড়ক ব্যবস্থা, হাঁটার পথ, পথচারী পারাপার দখলমুক্ত করবো’ যোগ করেন মেয়র তাপস।

এর আগে ডিএসসিসি মেয়র শেখ তাপস মহানগরের ৫৬নং ওয়ার্ডে অন্তবর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র এবং বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নে অংশ হিসেবে মতিঝিলে নির্মিত যাত্রী ছাউনি পরিদর্শন করেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য কামরুল ইসলাম, করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর সিতওয়াত নাঈম, প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহমদ, সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির উপস্থিত ছিলেন।

এমএমএ/এএএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]