কর্তৃপক্ষের নানা উদ্যোগে হাসি ফুটেছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:১৪ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১

তাদের কেউ পথ হারানো শিশু, কেউ শ্রমিক কেউবা অভিভাবকের স্নেহবঞ্চিত শিশু। ঝুঁকিতে থাকা ১৩ প্রকারের ২০৬ শিশুর এখন জীবন কাটে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে। সব হারিয়ে পুনর্বাসন কেন্দ্রে ঠাঁই হওয়া শিশুদের একটা সময় বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা ছিলো না। কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সম্প্রতি কেন্দ্রটিতে নানারকম সুবিধা পাচ্ছে শিশুরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘শেখ হাসিনার হাতটি ধরে, পথের শিশু যাবে ঘরে’ স্লোগানকে ধারণ করে ২০১২ সাল থেকে পুনর্বাসন কেন্দ্রটি কাজ করে যাচ্ছে। শিশুদের চিত্তবিনোদন, একটু খেলার সুযোগ, শিশুদের মাতৃপরশ দেওয়ার মতো নানা সৃজনশীল কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে কেন্দ্রটি। কিন্তু এর মধ্যে সবসময় ‘সাধ থাকলেও সাধ্য না’ থাকার বিষয়টিও সামনে চলে আসে। নানা সীমাবদ্ধতায় অনেক সময় শিশুদের অনেক মনোবাসনা পূরণ করাও সম্ভব হয় না।

jagonews24

তবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নান্দনিকতা বিকাশে আন্তরিকতার পরশ ছড়িয়েছেন হাটহাজারী উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমীন। তার উদ্যোগে কেন্দ্রে যুক্ত হয় করা হয় শিশুদের বিনোদনের নান্দনিক নানা অনুষঙ্গ। তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাচ্চাদের খেলাধুলার জন্য তৈরি করা হয় ‘শিশুরাজ্য-৩’ নামে একটা শিশুপার্ক, সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হয় মাঠ, শীতকালে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য প্রস্তুত করে দেওয়া হয় সুপরিসরের চমৎকার একটি ‘ব্যাডমিন্টন কোর্ট’। সংস্কার করে দেওয়া হয় কেন্দ্রের অভ্যন্তরের কিছু সড়ক এবং সীমানা দেয়াল। উদ্ধার করে দেওয়া হয় অবৈধ দখলে থাকা কেন্দ্রের কিছু জমি।

এ বিষয়ে মো. রুহুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে হাটহাজারীতে যোগদান করি। এরপর থেকে নিয়মিত এই কেন্দ্রের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ নানা বিষয় নিয়েও নানা উদ্যোগ নিয়েছি। এরই মাঝে করোনা মহামারির কারণে কিছুদিন কাজ করার সু্যোগ পাইনি। তবে বদলির কয়েক মাস আগে এ কেন্দ্রের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনোদনের জন্য স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে একগুচ্ছ উদ্যোগ গ্রহণ করি। কাজ চলাকালে পুরোদমে তত্ত্বাবধান করি। এখন শিশুদের জন্য এসব নানা অনুষঙ্গ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

jagonews24

শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের উপ-পরিচালক জেসমিন আকতার জাগো নিউজকে বলেন, কেন্দ্রের শিশুদের মানসিকতা বিকাশ ও খেলাধুলার কিছু অনুষঙ্গের ঘাটতি ছিল। তবে হাটহাজারীর সাবেক ইউএনও নিজ উদ্যোগে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করে দিয়েছেন। বিশেষ করে খেলার মাঠ, ব্যাডমিন্টন কোর্ট ও বিনোদনের নানা উপকরণগুলো পেয়ে শিশুরা যারপরনাই খুশি হয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়মানুযায়ী তিনি বদলি হলেও চলমান কাজের নিয়মিত খোঁজ রাখতেন। কেন্দ্রের কর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেন। উন্নয়ন কাজ শেষ হলে আমাদের আমন্ত্রণে তিনি সরেজমিনে দেখতে আসেন। সংস্কারকৃত মাঠে শিশুদের খেলাধুলা করতে দেখে তিনি খুশি হন।

জানা গেছে, হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নে অবস্থিত এই কেন্দ্রে বর্তমানে ১০৪ জন ছেলে শিশু এবং ১০২ জন মেয়ে শিশু আছে। ৬ বছর থেকে ১৮ বছরের পথশিশু, শিশুশ্রমিক, মাতাপিতা বা অভিভাবকের স্নেহবঞ্চিত শিশু, গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু, পাচার থেকে উদ্ধারকৃত শিশু, হারিয়ে যাওয়া শিশু, নির্যাতনের শিকার হয়ে ঝুঁকিতে থাকা শিশু, বাল্যবিবাহের শিকার শিশুসহ মোট ১৩ ধরনের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটি। দেশের ১৩টি জেলায় সরকারের চলমান এই শিশুবান্ধব কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্থাপিত এই পুনর্বাসন কেন্দ্রেটির সেবা কার্যক্রম ইতোমধ্যে মানুষের মাঝে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করেছে।

jagonews24

সম্প্রতি সরেজমিনে কেন্দ্রটিতে ঘুরে দেখা গেছে, প্রবল উৎসাহ আর আনন্দ নিয়ে নবনির্মিত ব্যাডমিন্টন কোর্টে একদল বাচ্চারা খেলাধুলা করছে, অন্যদল সংস্কার করা মাঠে ক্রিকেট খেলছে, কেউ কেউ শিশুপার্কে আনন্দে মেতে আছে। এক সময় যারা এদিক সেদিক রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়েছে, এই কেন্দ্রে এসে তারা এখন বিনোদনের সুন্দর পরিবেশ পাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ মাঝেমধ্যে শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছেন।

জানতে চাইলে সুবিধাবঞ্চিত এক শিশু বলেন, আমরা আগে লেখাপড়া এবং খাওয়া-দাওয়ার সুযোগ পেতাম। এখন আমরা নানারকম খেলাধুলারও সুযোগ পাচ্ছি। আমাদের অনেক খুশি লাগছে।

মিজানুর রহমান/এমআরএম/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]