কাজ হয়নি এক চতুর্থাংশও, ঠিকাদারের পকেটে প্রকল্পের পুরো টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩০ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

কুষ্টিয়ার খোকসায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে পৌরসভা প্রকল্পের ১৬ কিলোমিটার পাইপ লাইনের মধ্যে ৪ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন করে প্রকল্পের পুরো অর্থ ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অ্যানফোর্সমেন্ট ইউনিট অভিযান পরিচালনা করেছে। সংস্থাটির জনসংযোগ দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।

রোববার (৫ ডিসেম্বর) কুষ্টিয়ায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নীল কমল পালের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করে অ্যানফোর্সমেন্ট টিম।

প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে অ্যানফোর্সমেন্ট টিম জানতে পারে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে “৩২টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ অ্যানভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্প” এর আওতায় কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলায় রাস্তা মেরামতসহ পানি সরবরাহের ১৫ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপনে ২ কোটি ২৬ লাখ ৮১ হাজার ৭৮৩ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইজিপি সিস্টেমে কাজটির জন্য মেসার্স মনির ট্রেডার্স সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়।

ওই বছরের অক্টোবর মাসে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ শতাংশ কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজটি সম্পন্ন করার সময়সীমা ছিল পরের বছরের ২৭ আগস্ট। যদিও প্রকল্পের এ কাজ এখনও শেষ হয়নি। এমনকি কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সময় বর্ধিতকরণ সংক্রান্ত কোনো রেকর্ড অভিযানকালে পায়নি দুদক টিম।

অভিযানে দুদক আরও জানতে পারে, এরইমধ্যে কাজের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় আংশিক বিল বাবদ মোট ১ কোটি ৮০ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ টাকা ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছে।

এ প্রকল্পে গ্রাহকদের পানি সরবরাহ করা হলেও এস্টিসেটে/সিডিউলে পাইপলাইন থেকে গ্রাহকদের বাড়িতে পানি সংযোগ দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। পরবর্তীতে নন-টেন্ডার আইটেম হিসেবে পাইপলাইন থেকে গ্রাহকদের বাড়িতে পানি সংযোগ দিতে প্লাটফর্ম ও হাউজ কানেকশন নির্মাণ করে অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা বিল দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে দুদক জানতে পারে।

কমিশন সূত্রে আরও জানা যায়, ঠিকাদার কাজের সাইট বুঝে নেওয়ার সময় প্রকল্পের পূর্ণ ড্রয়িং ডিজাইন সরবরাহ না করে আংশিক ড্রয়িং ডিজাইন সরবরাহ করেন। কাজ চলাকালে ফের রিভাইসড ড্রয়িং ডিজাইন সরবরাহ করা হয়।

প্রকল্পের ১৫ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার পাইপ লাইন বসানো হয়েছে কি না এবং সিডিউল ও প্রাক্কলন অনুযায়ী পাইপ লাইনগুলোর গুণগত মান ও পরিমাণ সঠিক আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র যাচাইপূর্বক বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীর মাধ্যমে পরিমাপ করা প্রয়োজন বলে মনে করছে দুদক।

এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান করতে অ্যানফোর্সমেন্ট দল দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে।

এসএম/এমকেআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]