প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে ‘নিসআ’র বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৫২ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১

গত ৪ ডিসেম্বর অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ‘নিসআ’ কেন আসে?’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন (নিসআ)।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য তানজিদ সোহরাবের পাঠানো এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, প্রতিবেদনে ‘নিসআ’র বিষয়ে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদে শিক্ষার্থীদের বরাতে ‘নিসআ’র কয়েকজনের আন্দোলনের দ্বিতীয় দিন (১ ডিসেম্বর) যোগদানের কথা বলা হলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ‘নিসআর সব সদস্যই চলমান আন্দোলনে শুরু থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে পূর্ণ সমর্থন ও অংশগ্রহণ করেছে। গত ৮ নভেম্বর নিসআ থেকে সর্বপ্রথম শাহবাগে গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ পাসের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় এবং ১১ তারিখ বিআরটিএতে অবস্থান কর্মসূচি শেষে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর নিকট গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ পাসের স্মারকলিপি প্রদান করে এবং ওই দিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ পাস চাই’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ খোলা হয়, যা চলমান আন্দোলনের প্রথম ফেসবুক গ্রুপ এবং গ্রুপে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীদের যোগ করে নতুন আন্দোলনের জন্য কমিউনিটি বিল্ডআপ করা হয়।’

১ ডিসেম্বর রামপুরা ব্রিজের আন্দোলনে ‘নিসআ’র সদস্যদের শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র দেখাতে না পারার তথ্য প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অভিযোগকারীরা যদি আমাদের সদস্যদের নাইবা চিনতো তাহলে আপনাদের ইনফর্মেশন কী করে দিলো? তার মানে তারা সেখানে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই গিয়েছিল এবং বার্তা সংগ্রাহকের কাছে ভুল ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছে। সেদিন শাহীদুল ইসলাম আপন (জবি) ও আব্দুল্লাহ মেহেদি দীপ্ত (প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি) উভয়ই নিজেদের প্যান্টের বেল্ট হুকে আইডি কার্ড ক্যারি করছিলেন। ইনজামুল হক স্টেট ইউনিভার্সিটির মাস্টার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। সেদিন আন্দোলনের শেষদিকে সংবাদকর্মীদের অনুরোধে ইনজামুল হক কর্মসূচি ঘোষণার সময় শুরুতেই নিজের নাম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচয় প্রদান করেন’

প্রতিবেদনে সেদিন দুপুর ২টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি সমাপ্তির ঘোষণার পর নিসআর নেতাদের বক্তব্য দিয়ে নেতৃত্বে আসার কথা বলা হলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ‘সেদিন শাহীদুল ইসলাম আপন রামপুরায় সকালে শুরুর সময় থেকেই ছিলেন। ইনজামুল হক ও আবদুল্লাহ মেহেদি দীপ্ত রামপুরার নিকটস্থ লিংক রোড রামপুরা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি লেন তৈরির কাজ করছিলেন। কিছু সংবাদমাধ্যমের সরাসরি লাইভে যা স্পষ্ট উঠে এসেছে।... অনেক সাংবাদিক ও পরবর্তী দিনের কর্মসূচি সম্পর্কে জানতেন না, ফলে ইনজামুল হক পরবর্তী দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে চাইলে তখন পূর্বের ১১ দফা ঘোষণাকারীদের একাংশ এসে ‘অছাত্র’সহ বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য করলে রামপুরায় জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের ভুয়া বলে স্লোগান দেন।’

‘নিসআ’র বিরুদ্ধে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের দুটি সংগঠনের কর্মী আখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মূলত তারাই নিসআবিদ্বেষী মনোভাব ও রাজনৈতিক কোনো স্বার্থ হাসিলের জন্য ‘নিসআ’র বিরুদ্ধে আন্দোলনে অনুপ্রবেশ, অছাত্র, বাসমালিকদের সঙ্গে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ তুলে সংবাদকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করছে।’

প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের বরাতে ‘নিসআ’র নেতাদের বিরুদ্ধে পরিবহন মালিকদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সড়ক ব্যবস্থা নিরাপদ করার কাজে অংশগ্রহণ ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সময়ে আমাদের বিআরটিএ চেয়ারম্যান, ঢাকার দুই মেয়রসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সহযোগিতা নিতে হয়েছে। তবে বিষয়গুলোকে কিছু ব্যক্তি ও মহল ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে আমাদের বিতর্কিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।’

প্রতিবেদক ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য
ঘটনাস্থলে শিক্ষার্থীরা যা বলেছেন এবং অভিযোগ করেছেন তার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে ইনজামুল হকের কাছে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি সাউথইস্ট থেকে মাস্টার্স শেষ করেছেন বলেন জানান। স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী বলেননি।

প্রতিবেদন নিয়ে ‘নিসআ’র অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে রামপুরার আন্দোলনে শুরু থেকে সর্বশেষ ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নেতৃত্ব দেওয়া সেঁজুতি জাগো নিউজকে বলেন, ‘নিসআ যে ১১ দফার কথা বলছে, তারা তাহলে শুরু থেকে কেন রামপুরার আন্দোলনে সামনে এলো না। তাদের আন্দোলন আলাদা, আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনও আলাদা। বিআরটিএ কিংবা শাহবাগে দাঁড়িয়ে তারা যা ইচ্ছে তাই বলতে পারে, কিন্তু রামপুরার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’

এমআইএস/এইচএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]