এসডিজি বাস্তবায়নে ব্র্যাকের অগ্রাধিকারে তৃণমূলের নারীদের উন্নয়ন

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:৩৬ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১

স্বামীর নির্যাতনের বিভীষিকা যার ন্যূনতম বাঁচার স্বপ্নটাই কেড়ে নিয়েছিল, সেই নারী এখন স্বপ্ন দেখেন স্থানীয় নারী প্রতিনিধি হিসেবে বাল্যবিবাহের বিপক্ষে এলাকায় জনমত গঠন ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার। তার সংকল্প জাগ্রত নারীদের ‘আইকন’ হিসেবে সমাজে আলো ছড়াবেন।

ব্র্যাকের পার্টনার এনজিওসমূহের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালায় এই কথা জানালেন কক্সবাজারের উখিয়ার সাজেদা বেগম। বাড়ি তার রাজাপালং ইউনিয়নের হরিণমারা বাগান পাহাড় গ্রামে।

নির্যাতিত ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম ও স্বপ্নের গল্পটা যেন তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে যায় এবং সমাজে বাস্তবায়ন হয়, সে লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক।

একই সঙ্গে সংস্থাটির পার্টনার এনজিওসমূহ সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে আরও জোরালোভাবে কাজ করবে। এর পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে অন্যান্য বেসরকারি সংস্থাসমূহের অংশীদারিত্বমূলক কার্যক্রমকে বেগবান করবে ব্র্যাক।

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) কক্সবাজারের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বার্ষিক অগ্রগতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক কর্মশালায় সমাপনী সেশনে বক্তারা এই অভিমত তুলে ধরেন। আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও এই সংক্রান্ত সুপারিশ তুলে ধরতে অস্ট্রেলিয়ান এইড ও ব্র্যাকের সহযোগিতায় সংস্থাটির পাঁচটি পার্টনার এনজিও কর্মশালাটির আয়োজন করে।

এনজিওগুলো হলো—সোসাইটি ফর হেলথ এক্সটেনশন অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (শেড), প্রোগ্রাম ফর হেলপলেস অ্যান্ড ল্যাগেড সোসাইটিজ (পালস), অ্যালায়েন্স ফর কো অপারেশন এইডস বাংলাদেশ (অ্যাকলাব), জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থা (জেনাস) এবং নোঙর।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) মো. নাসিম আহমেদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ব্র্যাকের মানবিক সহায়তা কর্মসূচি (এইচসিএমপি) এর আওতাধীন হোস্ট কমিউনিটি প্রোগ্রামের প্রধান মো. আব্দুল মতিন সরদার, নোঙর-এর নির্বাহী পরিচালক দিদারুল আলম রাশেদ, অ্যাকলাব-এর নির্বাহী পরিচালক তারিকুল ইসলাম, জেনাস-এর নির্বাহী পরিচালক শিউলি শর্মা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পালস-এর নির্বাহী পরিচালক আবু মোরশেদ চৌধুরী।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. নাসিম আহমেদ বলেন, ‘এসডিজির যে ১৭টি লক্ষ্য আছে, তা বাস্তবায়নে সরকার সচেষ্ট। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের অধিকারবোধ ও মর্যাদার বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি ‘সামাজিক সম্প্রীতি,’ ‘ইনক্লুশন,’ জেন্ডার এই শব্দসমূহ সঠিকভাবে বলা ও অর্থপূর্ণ ব্যবহার এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণে গুরুত্বারোপ করেন।

মো. আব্দুল মতিন সরদার বলেন, ‘সময়ের পরিবর্তন ও প্রযুক্তির বিকাশের কারণে এনজিওগুলোকে গতানুগতিক কাজের ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রজেক্ট শেষ, কাজ শেষ- এটা যাতে না হয়। বেসরকারি সংস্থাসমূহকে উদ্ভাবনী আইডিয়া নিয়ে এগোতে হবে।’

উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম জোরালোকরণ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাম্পেইন করা, সীমিত সম্পদ বিবেচনায় নিয়ে বাজেট প্রণয়ন, সংস্থাগুলোর নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়ন, দাতা সংস্থা ও ব্র্যাকের মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ পরিচালনা করা, কর্মী সুরক্ষায় সেইফ গার্ডিং ইস্যু বজায় রাখা, যথাযথভাবে প্রকিউরমেন্ট পলিসি অনুসরণ করে কাজ করা এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এমইউ/এএএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]