নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি বন্ধ হওয়া দরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১১ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১

সমাজে নারী নির্যাতনের বহুমাত্রিক চিত্র সভ্যতা ও মানবতার কলঙ্ক। তাই এ নিয়ে দ্বিমত প্রকাশের অবকাশ নেই। এমনকি শিক্ষিতরাই নারীদের বেশি নির্যাতন করছেন বলে মত প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞজনেরা।

মঙ্গলবার (০৭ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা। আলোচনা সভার আয়োজন করে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগঠন ওয়ার্কার্স রিসোর্স সেন্টারর (ডব্লিউআরসি)।

গোলটেবিল আলোচনায় ডব্লিউআরসির ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদুল আলম রাজু বলেন, নারীরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হন। এমনকি শিক্ষিত মানুষেরা নারীদের বেশি নির্যাতন করছেন।

প্রোগ্রাম অফিসার আইএলও আরএমজিবি-২ এবং জেন্ডার অ্যান্ড ডাইভারসিটি কমিটির চেয়ারম্যান শাম্মিন সুলতানা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। তাই এসব বিষয়ে আমাদের নজর দিতে হবে। নারী যেন কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ থাকতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ওয়ার্কার্স রিসোর্স সেন্টারের (ডব্লিউআরসি) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিকুল আলম বলেন, নারীর প্রতি আমাদের পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। তাদের সামাজিকভাবে ও কর্মক্ষেত্রে সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ তৈরি করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। নারীদের প্রতি যে সহিংসতা ও যৌন হয়রানি হয় সেগুলো নির্মূলে যৌন হয়রানি বিরোধী কমিটি গঠন করা জরুরি।

এর আগে গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ার্কার্স রিসোর্স সেন্টার (ডব্লিউআরসি) নারী কমিটির ভাইস চেয়ারপারসন ফাহমিনা কাশেম মিশু। এসময় তিনি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসের প্রেক্ষিত, নির্যাতন ও হয়রানি এবং ভবিষ্যতে করণীয় নানা বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সমাজে নারী নির্যাতনের বহুমাত্রিক চিত্র সভ্যতা ও মানবতার কলঙ্ক। তাই এনিয়ে দ্বিমত প্রকাশের অবকাশ নেই। শুধু নারীই নয়, সমান্তরালে চলছে শিশু নির্যাতন। বিশেষ করে কন্যাশিশু নির্যাতন।

ফাহমিনা কাশেম মিশু জানান, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান মতে গত ১০ মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক হাজার ১৭৮ জন নারী। ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে ২৭৬ জন নারীর ওপর। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৪৩ জনকে, লোকলজ্জার ভয়ে আত্মহত্যা করেছেন আটজন। শারীরিক নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে ৬৩ জনকে ও অ্যাসিডে ঝলসে দেওয়া হয়েছে ২০ নারীকে।

কর্মক্ষেত্রে এবং সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি বন্ধে আইন প্রণয়ন এবং আইএলও কনভেনশন- ১৯০ অনুস্বাক্ষর বিষয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স রিসোর্স সেন্টার (ডব্লিউআরসি) নারী কমিটির চেয়ারপারসন সেহেলী আফরোজ লাভলি। এসময় আইএলও এসডিআইআর প্রোজেক্ট ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার জামিল অনসারসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরএসএম/কেএসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]