ক্ষুধা-দারিদ্র্য-বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়তে সবাইকে কাজ করতে হবে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২২ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শোষণ-বঞ্চনামুক্ত, ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতামুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনার সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

এক্ষেত্রে মাগুরা জেলা প্রশাসন আয়োজিত মাগুরা মুক্ত দিবস ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) মাগুরা জেলা প্রশাসন আয়োজিত মাগুরা মুক্ত দিবস ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে স্পিকার এসব কথা বলেন। এসময় তিনি অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

ড. শিরীন শারমিন বলেন, পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে তৎকালীন মাগুরা মহকুমায় ব্যাপক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। মাগুরাকে শত্রুমুক্ত করতে বীর মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপক সাহসী ভূমিকা নিয়ে পাক সেনা ও স্থানীয় রাজাকার, আল বদর বাহিনীর সঙ্গে প্রাণপণ যুদ্ধ করেন। গেরিলা বাহিনীর ব্যাপক আক্রমণে ও মিত্র বাহিনীর আগ্রাসনের ভয়ে পাক সেনারা রাতারাতি মাগুরা শহর ছাড়তে বাধ্য হয়। ৭ ডিসেম্বর শত্রুমুক্তির আনন্দে মাগুরা শহরে মুক্তিকামী মানুষের ঢল নামে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৪৮ থেকে ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৬-এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজয়, ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চ নৃশংস গণহত্যা, ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন এবং এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর পাক সেনাদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের পাশাপাশি অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বনন্দিত ও অনন্য সংবিধান প্রণয়ন ইতিহাসে একটি মাইলফলক।

স্পিকার বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে আজ এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন বিস্ময়। ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের মূল পরিকল্পনা। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম উন্নত দেশ।

তিনি বলেন, এরইমধ্যে বাংলাদেশ জাতিসংঘের কাছ থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শীর্ষে। দারিদ্র্য হ্রাস, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, শতভাগ বিদ্যুতায়ন, গৃহহীন ৯৯ লাখ মানুষকে ঘর তৈরি করে দেওয়া, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেছে বর্তমান সরকার। অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

মাগুরার জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাহজাহান খান এমপি, মো. সাইফুজ্জামান এমপি, ড. বীরেন শিকদার এমপি ও ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল এমপি বক্তব্য রাখেন।

এইচএস/এমকেআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]