‘শুধু আইন দিয়ে দুর্নীতি দমন সম্ভব নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:১৫ এএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১

২০২০ সালের মার্চে দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মহামারিকালে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার কয়েক দফা বিধিনিষেধ জারি করে। এতে দেশে এক ধরনের স্থবিরতা নামে। বিশেষত, রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগে। তারই প্রভাব পড়ে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পর্যায়ের পরিবারগুলোতে। এসময়ে কাজ হারায় লাখ লাখ মানুষ। বাড়ে বেকারত্ব। বহু লোক চাকরি খুইয়ে পরিবার নিয়ে শূন্য হাতে গ্রামে ফিরে।

তবে জনজীবন যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখতে গত বছর সরকার জনস্বার্থে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। কিন্তু প্রণোদনার সেই সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ দুর্নীতি। করোনা মহামারিতে দেশে দেশে যখন মৃত্যুর মাতম, মানুষ যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, এমন বিরূপ পরিস্থিতিতেও একটি সুবিধাভোগী শ্রেণি মানুষের কথা বেমালুম ভুলে দুর্নীতি নিমজ্জিত ছিল। যে কারণে করোনাকালীনও দেশের স্বাস্থ্যখাতের নানা অনিয়মের চিত্র উঠে আসে। আর্থিক খাতের একাধিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-দুর্নীতিও জনগণ জানতে পারে।

সব ধরনের দুর্নীতি বিষয়ক অভিযোগ অনুসন্ধান, তদন্ত ও মামলা পরিচালনা ও দুর্নীতি কমাতে প্রতিরোধমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলছে, কোভিড-১৯ এর সময়ও থেমে ছিল না তাদের কার্যক্রম। দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতি অনুসন্ধানের পাশাপাশি চলমান আছে প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ড।

আজ ৯ ডিসেম্বর, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস। ‘আপনার অধিকার, আপনার দায়িত্ব: দুর্নীতিকে না বলুন’- এ প্রতিপাদ্য নিয়ে এ বছর দিবসটি পালন করছে দুদক। প্রথমবারের মতো ঢাকাসহ দেশের ৮টি বিভাগ, ৬৪টি জেলা এবং ৪৯৫টি উপজেলায় দিবসটি ঘিরে বড় পরিসরে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, জনসম্পৃক্ততা ছাড়া শুধু আইন দিয়ে দুর্নীতি দমন করা সম্ভব না। জনসচেতনতা লাগবে। জনগণকে সচেতন করতে আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে। তারাও যেন দুর্নীতি দমনে অংশ নেয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, মহামারির মধ্যে শ্লথ হলেও থেমে ছিল না দুদকের দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক ও সচেতনমূলক কার্যক্রম।

জানা গেছে, ২০২০ সালে সারাদেশে ৯৬৩টি সততা স্টোর বসানো হয়েছে৷ ৮টি বিভাগে সতাতা স্টোরের সংখ্যা ৫ হাজার ১১২টি, যা ২০১৯ সালে ছিল চার হাজার ১৪৯টি।

একইসঙ্গে ২০২০ সালে সারাদেশে সততা সংঘ বেড়েছে ৪ হাজার ১১টি। এছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধে দেশজুড়েই চলমান ছিল র্যালি, রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেমিনার, নাটক ও মানববন্ধনের মত কার্যক্রম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের সহকারী পরিচালক শফিউল্লাহ আদনান জাগো নিউজকে বলেন, কোভিডের মধ্যেও দুদকের কার্যক্রম স্থবির ছিল না। ২০২০ সালে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম সারাদেশে ৪৮৭টি অভিযান পরিচালনা করেছে, ৭৭৪টি দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ২০৫টি অভিযান হয়েছে। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর নভেম্বর পর্যন্ত ১১১টি অভিযান চালিয়েছে এনফোর্সমেন্ট টিম।

এসএম/এমকেআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]