দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে অভিবাসন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন দরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৪ পিএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১

অভিবাসী হতে আগ্রহী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর জন্য অভিবাসন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন দরকার। এক্ষেত্রে প্রান্তিক পর্যায়ে কর্মীদের দোরগোড়ায় যেতে না পারলে সমস্যার সমাধান হবে না। এছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের ঋণ সংকট থেকে সুরক্ষা করাও জরুরি।

বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। ওয়্যারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘অভিবাসী শ্রমিকদের ঋণ সংকট থেকে সুরক্ষার অধিকার’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় সাবেক সংসদ সদস্য রোকসানা ইয়াসমিন ছুটি বলেন, প্রতিবছর বহু লোক দেশের বাইরে যান। এরা নানাভাবে দেশের বাইরে যান। এখানে দালালদের সংখ্যা এতো বেশি যে বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রান্তিক মানুষজন কোনো না কোনোভাবে তাদের কাছে যান। এরপর নানা হয়রানির শিকার হন, নানা সমস্যায় পড়েন। কয়েকদিন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখলাম কয়েকজন অভিবাসী দালালের খপ্পরে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন। এগুলো থেকে আমরা নিস্তার চাই।

ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার এমপ্লয়মেন্ট ট্রেনিংয়ের উপ-পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান সরকার বলেন, অভিবাসনের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় দরকার। আমাদের অভিবাসন পরিস্থিতি এখন উন্নতির দিকে। সরকার অভিবাসন নিয়ে কাজ করছে। শিগগির এর আরও প্রতিফলন পাওয়া যাবে। তবে অভিবাসন প্রক্রিয়ারও পরিবর্তন দরকার, যাতে সহজে কর্মীদের পাঠানো যায়। কর্মীদের দোরগোড়ায় যেতে না পারলে সমস্যার সমাধান হবে না।

তিনি বলেন, শুধু লোক পাঠানো ও সচেতন করা এজেন্সিগুলোর কাজ নয়। সঠিক অভিবাসনের জন্য মার্কেটিং একটি বড় দায়িত্ব। এরজন্য এজেন্সিগুলোকে প্রান্তিক পর্যায়ে যেতে হবে। শুধু ঢাকায় বসে এটা করা যাবে না। জেলা পর্যায়েও কাজ করতে হবে। সেটা করতে অনেকে ভয় পায়। কিন্তু এজেন্সিগুলো যদি সঠিক চাহিদাপত্র নিয়ে সেখানে যায় তাহলে তো কোনো সমস্যাই হওয়ার কথা নয়। বরং প্রান্তিক মানুষগুলো আরও সহজে কাজগুলো করতে পারতো।

ডিইএমও সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস রুপা বলেন, মানুষ সচেতন হচ্ছে। তবে এজন্য আরও কাজ করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি নানা সংস্থা এই কাজটি করতে পারে। অভিবাসীদের সচেতনতার জন্য এটি করা জরুরি।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়্যারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- আয়োজক সংগঠনের উপ-পরিচালক সোহরাওয়ার্দী হোসাইন, পরিচালক জেসিয়া খাতুন, বিওএএফ এর চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান, শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন প্রমুখ।

আরএসএম/কেএসআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]