বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল বাংলাদেশের এক নতুন অভিযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:২২ এএম, ১১ জানুয়ারি ২০২২

১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল বাংলাদেশের এক নতুন অভিযাত্রা। বিজয় অর্জনের পর বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে বাঙালি পড়েছিল বাস্তবতার মুখোমুখি। সে সময় জাতিকে পথ দেখিয়েছেন বঙ্গবন্ধু।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সোমবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

আলোচনা সভায় মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য মঞ্চের সভাপতি রুহুল আমিন মজুমদার বলেন, পাকিস্তানের কারাগারে গোপনে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সব প্রকার আয়োজন সম্পন্ন করেছিলেন সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান। এ ঘটনা জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তির জন্য পাকিস্তানের সামরিক জান্তাকে চাপ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ৬৭টি দেশের সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধানকে চিঠি দেন। অন্যদিকে তিনি ইউরোপের ৫টি দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সফর করে বিশ্বজনমত বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের অনুকূলে আনতে সক্ষম হন। ফলে পাকিস্তানের সামরিক জান্তার পক্ষে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা সম্ভব হয়নি।

মুক্তিযোদ্ধা ড. শাজহান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা বাংলাদেশের এক নতুন অভিযাত্রা। তার আগমনের দিনটি এখনও অনেকের মনে গভীর আনন্দের স্মৃতি হয়ে আছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর আগমন বাঙালি জাতির জন্য একটি বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

ভাস্কর শিল্পী রাশা বলেন, ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান। একটি পাকিস্তান সামরিক বিমানে খুব গোপনে প্রথম লন্ডনে পরে স্বদেশে ফেরার জন্য বঙ্গবন্ধু ওঠেন ব্রিটিশ রাজকীয় বিমান বহরের কমেট জেটে। বাংলাদেশে ফেরার পথে বিমানটি দুই ঘণ্টার যাত্রা বিরতি করে দিল্লিতে। ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানান।

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি রোমান হোসাইন। এসময় উপস্থিত ছিলেন- মুক্তিযোদ্ধা ড. এসএম জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ প্রমুখ।

আরএসএম/কেএসআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]