নিরীক্ষা ছাড়া ইভ্যালির সম্পত্তি বিক্রি না করার অনুরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০৭ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২২

হাইকোর্ট গঠিত ইভ্যালির পরিচালনা পর্ষদে নিজেদের একজন প্রতিনিধি রাখার দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মার্চেন্ট, গ্রাহকদের একাংশ। পাশাপাশি নিরীক্ষা বা অডিট না হওয়া পর্যন্ত ইভ্যালির কোনো সম্পত্তি বিক্রি না করতে পর্ষদকে অনুরোধ করেছেন তারা।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) ইভ্যালি ফ্যানস ক্লাব ও ইভ্যালি আন্দোলনের প্রতিনিধিরা এ দাবি সম্বলিত চিঠি হাইকোর্ট নিযুক্ত বোর্ড কমিটির এমডি মাহবুব কবির মিলনকে দেন।

চিঠিতে বলা হয়, ইভ্যালির স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মার্চেন্টের ব্যবসা বন্ধ। ফলে তারা ব্যাংকঋণ এবং সাপ্লাইয়ের ক্রেডিটের জন্য অমানবিক জীবনযাপন করছেন। ভোক্তারা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ওই কমিটির কাঙ্ক্ষিত কাজে সহায়ক হতে পরিচালনা কমিটিতে মার্চেন্ট এবং ভোক্তাদের কমপক্ষে একজন প্রতিনিধি থাকা প্রয়োজন।

এতে আরও বলা হয়, ইভ্যালির নিরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি বিক্রি বা অন্যত্র হস্তান্তর থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

ইভ্যালি আন্দোলন সমন্বয়ক মো. নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠি হাইকোর্ট নিযুক্ত বোর্ড কমিটির এমডি মাহবুব কবির মিলন গ্রহণ করেন। চিঠি হস্তান্তর করেন আন্দোলন কো-সমন্বয়ক সাকিব হাসান ও ইভ্যালি ফ্যানস ক্লাবের অ্যাডমিন মোফতাছিম বিল্লাহ নাহিদ। চিঠি গ্রহণ করে মাহবুব কবির মিলন জানান, পরবর্তী বোর্ড মিটিংয়ে এই চিঠি নিয়ে আলোচনা করা হবে। ইভ্যালি ও গ্রাহকদের জন্য ভালো কিছু করবেন বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ইভ্যালি তাদের কার্যক্রম শুরু করে। আকর্ষণীয় অফার আর মূল্যছাড়ের ঘোষণা দিয়ে দ্রুতই জনপ্রিয়তা পায় প্রতিষ্ঠানটি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে গ্রাহকের করা প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার হন ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও সিইও। এরপর পণ্য ক্রয় বাবদ প্রতিষ্ঠানে জমা রাখা টাকা ফেরত পেতে তোড়জোড় শুরু করেন গ্রাহকরা।

ইভ্যালি নিয়ে গ্রাহকের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের অক্টোবরে হাইকোর্ট একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেন। সাবেক বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে করা হয় পর্ষদের চেয়ারম্যান। সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলনকে নিয়োগ দেওয়া হয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে। পর্ষদ গঠনের পর চার মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত ইভ্যালির অডিট বা নিরীক্ষা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে গত সপ্তাহে মাহবুব কবির মিলন জাগো নিউজকে বলেন, আমরা খুব অর্থ সংকটে আছি। অডিট ফার্ম যে টাকা চেয়েছে, আমাদের কাছে তা নেই। আমরা অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছি।

গত ১৬ জানুয়ারি ইভ্যালির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে ‘কোম্পানির স্বার্থে’ সম্পদ বিক্রি করে ব্যবহারের অনুমতি দেন হাইকোর্ট। ফলে অডিট পরিচালনা করতে ও কর্মীদের বেতন দিতে ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল ও কর্মকর্তাদের গাড়ি বিক্রি করতে চাইছে পরিচালনা পর্ষদ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া ইভ্যালির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই পর্যন্ত তাদের দায়দেনার পরিমাণ ছিল ৫৪৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তার সুস্পষ্ট ধারণা এখনও পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রতিষ্ঠান থেকে কতজন গ্রাহক টাকা পাবেন সে সংখ্যাও অজানা।

এসএম/কেএসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]