ভুয়া সনদধারী ৭ চিকিৎসককে গ্রেফতার করলো দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০৪ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২২

চীনের তাইশান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস পাসের ভুয়া সনদধারী সাত চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুদকের উপ-পরিচালক সেলিনা আখতার মনির নেতৃত্বে একটি টিম তাদের গ্রেফতার করে। দুদকের জনসংযোগ দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গ্রেফতাররা হলেন, ইমান আলী, সুদেব সেন, তন্ময় আহমেদ, মোক্তার হোসেন, কাওছার, রহমত আলী ও মাসুদ পারভেজ। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ভুয়া ১২ চিকিৎসক ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) দুই কর্মকর্তাসহ মোট ১৪ জনকে আসামি করে মামলা করে দুদক।

গত ৩ জানুয়ারি আসামিদের মধ্যে মাহমুদুল হক নামে একজন হাইকোর্টে আগাম জামিন চান। তার জামিন না দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত।

jagonews24

এ বিষয়ে দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘রেকর্ডপত্র যাচাইকালে দেখা গেছে, তাদের এমবিবিএস সার্টিফিকেটগুলো ভুয়া। ১২ জনের এমবিবিএস ডিগ্রিধারী সনদ ভুয়া। এমবিবিএস সনদধারী ওই ব্যক্তিরা কখনো চীনের তাইশান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেননি। আজ তাদের মধ্যে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ এর সঙ্গে সরকারি যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিষয়ে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা জালিয়াতি ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভুয়া এমবিবিএস সনদ ব্যবহারের মাধ্যমে চিকিৎসক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন সনদ গ্রহণ করেছেন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তারা চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া এমবিবিএস সনদ ব্যবহার করে বিভিন্ন তারিখে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল গৃহীত রেজিস্ট্রেশন যোগ্যতার পরীক্ষায় অংশ নেন। এরপর উত্তীর্ণ হয়েছেন বলে চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন নম্বর গ্রহণ করে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন অনুশীলন ও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছেন।

এতে আরও বলা হয়, এমবিবিএস সনদ যাচাইয়ের জন্য সনদপত্রগুলোর অনুলিপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি চীনের তাইশান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায় দুদক। তবে স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন তাইশান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় উল্লিখিত ১২ জন এমবিবিএস ডিগ্রিধারীর এমবিবিএস সনদ ভুয়া বলে জানায়। এছাড়া সনদগুলোর স্বাক্ষরের সত্যতা পরীক্ষা করার জন্য হস্তলেখা বিশারদের মতামত গ্রহণ করা হয়। তাতেও দেখা যায়, সনদের স্বাক্ষরগুলোতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ওই ১২ জন ভুয়া এমবিবিএস সনদধারী কখনো তাইশান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেননি। কেউ কেউ শুধু ভ্রমণ ভিসায় চীনে গিয়েছিলেন। তবে সেই দেশে থাকার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। সুতরাং, তাদের এমবিবিএস ডিগ্রির সনদগুলো ভুয়া।

এছাড়া বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সার্টিফিকেট যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সতর্কতা বা নিয়ম-নীতির প্রতিপালন করেনি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এসএম/এআরএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]