পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে লাগবে করোনা নেগেটিভ সনদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৪ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২২
ফাইল ছবি

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত বছর (২০২১ সালে) পুলিশ সপ্তাহ হয়নি। এবার করোনার প্রকোপ কমে আসায় দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে অনুষ্ঠানটির। আগামী ২৩ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত হবে এ বছরের পুলিশ সপ্তাহ। রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তবে দেশে করোনার প্রকোপ আবার বেড়ে যাওয়ায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ও সাংবাদিকদের করোনা নেগেটিভ সনদ প্রয়োজন হবে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ও সাংবাদিকদের করোনা নেগেটিভ সনদ লাগবে। সাংবাদিকেরা রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে যোগাযোগ করে পরীক্ষার পর সনদ নিতে পারবেন।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ পুলিশ সপ্তাহ হয় ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি। কিন্তু করোনার প্রকোপের কারণে গত বছর পুলিশ সপ্তাহ হয়নি। তারপরও পুলিশ সদর দপ্তর নানাভাবে চেষ্টা করেছিল অনুষ্ঠানটি করতে। কিন্তু নানা প্রতিকূলতার বিষয় চিন্তা করে সরকারের হাইকমান্ড থেকে মেলেনি সাড়া। এবার যেন পুলিশ সপ্তাহটি করা যায়, সেজন্য ছয় মাস আগে থেকে কাজ শুরু করে পুলিশ সদর দপ্তর। এ নিয়ে একাধিক টিম গঠন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) সরকারের হাইকমান্ডের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। সর্বশেষ চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইজিপি। তারপর অনুমতি মেলে অনুষ্ঠানের।

জানা যায়, সাধারণত পুলিশ সপ্তাহ পাঁচদিন হয়ে থাকে। সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে নির্বাচিত পুলিশ সদস্যদের বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) দেওয়া হবে। এছাড়া একাধিক আলোচনা, মতবিনিময়, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ সংক্রান্ত মতবিনিময় সভাসহ নানা আয়োজন থাকবে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর আতঙ্কে যখন স্বজনরা আক্রান্তদের ছেড়ে যাচ্ছিল, তখনই জীবনের পরোয়া না করে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিশ। করোনার ভয়াবহতার সময় পুলিশ সদস্যরা নিজেদের সুরক্ষার কথা চিন্তা না করে আগে সেবা দিয়েছেন। পুলিশকে সারাবিশ্বের মতো আমাদের দেশেও ফ্রন্টলাইনার হিসেবে কাজ করতে হয়েছে। করোনাকালে দেশ ও জনগণের কল্যাণে বাংলাদেশ পুলিশের ১০৭ জন সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।

এর আগে সেবা, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ২০২০ সালে বিপিএম-পিপিএম পান ১১৮ জন। তার আগে ২০১৯ সালে ৩৪৯ জন পুলিশ সদস্যকে এই পদক দেওয়া হয়।

এছাড়া ২০১৮ সালে ১৮২, ২০১৭ সালে ১৩২, ২০১৬ সালে ১২২, ২০১৫ সালে ৮৬ জন কর্মকর্তাকে বিপিএম-পিপিএম পদক দেওয়া হয়।

এদিকে, এবার পুলিশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘আইজিপি’স এক্সেমপ্ল্যারি গুড সার্ভিসেস ব্যাজ (আইজিপি ব্যাজ) পাচ্ছেন বাহিনীর ৪০১ কর্মকর্তা

টিটি/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]