শিশুশ্রম বন্ধে সবাইকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০৬ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২২

বাংলাদেশে ৪৭ লাখ শিশু শ্রমিক যেসব সেক্টরে কাজ করছে সেগুলো সুনির্দিষ্ট করতে হবে। যদি শিশুশ্রম বন্ধ করা না যায় তাহলে এটা আমাদের জন্য অভিশাপ হিসেবে থেকে যাবে। আমরা সবাই যদি আন্তরিক হই তাহলে শিশুশ্রম নিরসন সম্ভব হবে বলে মত বিশিষ্টজনদের।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। শিশুশ্রম নিরসনে ট্রেড ইউনিয়ন ও গনমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ কাউন্সিল ওলেবার রাইটস সাংবাদিক ফোরাম (আইটিইউসি)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএফইউজে সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, আমরা পরিবহন খাতে কোনো শিশু শ্রমিক দেখতে চাই না। বর্তমান সময়ে এসেও পরিবহন খাতে বহু শিশু শ্রমিক দেখা যায়। বিশেষ করে লেগুনা গুলোতে।

তিনি বলেন, পরিবহন খাতে শিশুশ্রম মুক্ত করতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও কাজ করতে হবে। কোনো পরিবহনে সহকারী ও চালক হিসেবে যেন কোনো শিশু না থাকে, সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মনোযোগী হতে হবে।

শিশুশ্রম বন্ধের ব্যাপারে সরকার কী পদক্ষেপ নিতে পারে এ ব্যাপারে ওমর ফারুক বলেন, শিশুশ্রম বন্ধ করতে হলে তাদের সুনির্দিষ্ট তালিকা করতে হবে। তারা যে টাকা বাইরে পরিশ্রম করে ইনকাম করতো সেই পরিমাণ অর্থ তাদের দিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে পাঠাতে হবে। তাহলে তারা শিশুশ্রম থেকে দূরে থাকবে এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হবে। সরকার চাইলেই এই ৪৭ লাখ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করা সম্ভব।

নারী ও শিশু পাচার বিষয়ে তিনি বলেন, যেসব চক্র নারী ও শিশু পাচার যুক্ত আছে তাদের অনেকেই আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যায়। জেল থেকে বের হয়ে পরবর্তীতে তারা কী করে, তাদের এই মুভমেন্ট লক্ষ্য রাখতে হবে। এ সব বিষয়ে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক নজরদারি না করলে আমাদের পক্ষে শিশুশ্রম বন্ধ করা কঠিন হবে।

সভাপতির বক্তব্যে আইটিইউসি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, কোনো শিশুর উদ্ভাবন চিন্তা কেমন আমরা বলতে পারি না। তাদের মেধা বিকাশে যদি আমরা সাহায্য করি তাহলেই দেশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ থেকে শিশুশ্রম দূর হবে।

আইটিইউসি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিল লেবার রাইটস সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আবদুল হান্নান, সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ বাদল প্রমুখ।

এএএম/কেএসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]