শাহজালালে বিদেশফেরতদের অ্যান্টিজেন টেস্ট সম্ভব নয়!

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:৪২ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২২

সরকারি নির্দেশনা থাকলেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ মুহূর্তে অভিবাসী শ্রমিকসহ বিদেশফেরত যাত্রীদের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করার জন্য বিমানবন্দরের বাইরে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা থাকলে সে ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে মনে করছে সংস্থাটি।

মহামারি করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমরোধে গত ১০ জানুয়ারি ১১ দফা বিধিনিষেধ দেয় সরকার। এ বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে ১৩ জানুয়ারি থেকে। বিধিনিষেধে বলা আছে, বিদেশ থেকে আসা যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক করোনার টিকা সনদ দেখাতে হবে ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করাতে হবে।

সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে করণীয় নির্ধারণে রোববার (২৩ জানুয়ারি) বিমানবন্দরে বেবিচক আয়োজিত সভায় এ অভিমত দেন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা।

বেবিচক কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার যাত্রী আসছে। তার ওপর তৃতীয় টার্মিনাল স্থাপন কার্যক্রমের কারণে বর্তমানে প্রতিদিন রাতের বেলায় বেশ কয়েক ঘণ্টা ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকছে। এ অবস্থায় স্বাভাবিক নিয়মে যাত্রীদের ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য কার্যক্রম করতেই হিমশিম খেতে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানান, সরকারিভাবে বিমানবন্দরে এখনও র‌্যাপিড এন্টিজেন পরীক্ষার মেশিন বসেনি। এ পরীক্ষা দ্রুততম সময়ে করা গেলেও প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ১০ হাজার যাত্রীর পরীক্ষার জন্য বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে যে পরিমাণ ফাঁকা জায়গা প্রয়োজন এখানে তা নেই। বিমানবন্দরের ভেতরে এ পরীক্ষা করলে টার্মিনাল মাছের বাজারে পরিণত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।

তারা বলছেন, এ কারণে বিকল্প চিন্তা (আশকোনা হজ ক্যাম্পে পরীক্ষার কথা, তবে ফ্লাইটে কয়েক ঘণ্টার দীর্ঘ ভ্রমণের পর যাত্রীরা পরৗক্ষা করাতে যাবে কি না সন্দেহ) কিংবা যাত্রীরা বাড়িতে পৌঁছে করোনার উপসর্গ থাকলে জানানোর ব্যাপারে উদ্ধুদ্ধ করা যেতে পারে বলে তারা অভিমত দেয় বেবিচক কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ জাগো নিউজকে বলেন, শাহজালালে আপাতত র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। আজকের সভায় বিভিন্ন বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা নানা দিক বিবেচনা করে এমনটাই অভিমত দিয়েছেন।

এমইউ/এমকেআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]