সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু: তিন সংগঠনের তথ্যে বিস্তর ফারাক!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০১ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২২
প্রকৃত সংখ্যা বের করা না গেলে সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা/ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশে রেল-সড়ক ও নৌ দুর্ঘটনার সংখ্যা, এসব ঘটনায় কতো জন নিহত হলো- সেই তথ্য সংরক্ষণ করে একাধিক সংগঠন। মূলত পত্রিকা, টেলিভিশন ও অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত খবর থেকে এ তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

এসব সংগঠনের মধ্যে অন্যতম হলো- রোড সেফটি ফাউন্ডেশন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ও যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তবে এই সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনে দেখা যায় বিস্তর ফারাক! বরাবরের মতো গত বছরের সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ও মৃত্যুর তথ্য দেয় এই তিন সংগঠন।

তাদের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তিন সংগঠনের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হিসাবে ফারাক এক হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার পর্যন্ত।

সবশেষ রোববার (২৩ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টস ইউনিটিতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, গত বছরে দেশে পাঁচ হাজার ৬২৯টি সড়ক দুর্ঘটনা হয়। এরমধ্যে নিহত হন সাত হাজার ৮০৯ জন। আর নয় হাজার ৩৯ জন আহত হন।

সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে দেওয়া সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন করা হয়।

jagonews24

তিনি বলেন, ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ, নিহত ১৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ ও আহত ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে গত ৮ জানুয়ারি সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আলাদা প্রতিবেদন প্রকাশ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশে পাঁচ হাজার ৩৭১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ হারান ছয় হাজার ২৮৪ জন। আর নিসচা বলছে, একই সময়ে তিন হাজার ৭৯৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় চার হাজার ২৮৯ জন নিহত হন।

যাত্রী কল্যাণ ও নিসচার মৃত্যুর হিসাবের পার্থক্য তিন হাজার ৫২০। আর রোড সেফটির সঙ্গে পার্থক্য এক হাজার ৫২৫। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যায় আবার রোড সেফটি ও নিসচার পার্থক্য প্রায় দুই হাজার।

প্রতিবেদন তৈরি করতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং টেলিভিশনের তথ্য নিয়েছে। আর নিসচা নিয়েছে ১১টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার তথ্য। এছাড়া অনলাইন পোর্টাল ও টেলিভিশনের তথ্য এবং নিসচার শাখা সংগঠনগুলোর প্রতিবেদন যুক্ত হয়েছে।

মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যাতেও রয়েছে বিস্তর ফারাক। সবচেয়ে বেশি পাঁচ হাজার ৬২৯টি সড়ক দুর্ঘটনার কথা জানায় যাত্রী কল্যাণ। আর রোড সেফটি পাঁচ হাজার ৩৭১টি, নিসচা তিন হাজার ৭৯৩টি সড়ক দুর্ঘটনার কথা জানায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাফিক পুলিশ সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করলেও তা প্রকাশ করে না। এছাড়া সরকারি অন্য কোনো সংস্থা সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে না।

তারা বলছেন, বিভিন্ন সংগঠনের গড়মিলে তথ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এ জন্য সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের উদ্যোগ নিতে হবে।

jagonews24নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ জাগো নিউজকে বলেন, সংগঠনগুলোর সোর্স ভিন্ন থাকায় তথ্যের তারতম্য হচ্ছে। কেউ হয়তো তিনটা পত্রিকা নিচ্ছে, কেউ চারটা। আবার কেউ কেউ ভিন্ন ভিন্ন পত্রিকা নিচ্ছে। দেখা যায়, কোনো পত্রিকায় গত তিনদিনের দুর্ঘটনা একদিনে নিয়ে আসা হয়। কোনোটায় তিনদিনের দুর্ঘটনা তিনদিনই প্রকাশ হয়। একই এক্সিডেন্টে যদি চিহ্নিত করা না যায় তাহলে কনফিউজড হবে। সংখ্যা বেশি চলে আসবে।

প্রকৃত সংখ্যা বের করা না গেলে দুর্ঘটনা বন্ধে কার্যকর কৌশল গ্রহণ করা যাবে না বলে মনে করেন এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, ট্রাফিক পুলিশ ডাটা সংগ্রহ করে। তারা যদি প্রতিদিন বা প্রতিমাসের তথ্য এন্ট্রি করে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানায়, তাহলে ভালো হয়। সেখান থেকে যার যেটা দরকার নিয়ে নিলো।

সড়ক ছাড়াও রেল ও নৌ দুর্ঘটনাও নিয়ে রয়েছে পার্থক্য। এ বিষয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, তথ্য গোপন ও তথ্য টেম্পারিং উভয়ই অপরাধ।

তিনি বলেন, একেকজন একেক মেথড নিয়ে প্রতিবেদন করে। এই কারণে পার্থক্যটা হয়। এই অবস্থা নিরসনে জাতীয়ভিত্তিক তথ্য ব্যাংক বানাতে হবে। সরকারকে নিতে হবে এই উদ্যোগ। আমাদের মতো নাগরিক সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এই তথ্য ব্যাংক করতে পারে। সেটাই ভালো হবে।

এসএম/জেডএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]