বড় অপরাধ-মামলা কমেছে, নেপথ্যে বিট পুলিশিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৩৩ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২২
ছবি: সংগৃহীত

২০১৯ সালে সারা দেশে দুই লাখ ২৫ হাজার ৬৮৪টি মামলা হয়। ২০২০ সালের এপ্রিলে ড. বেনজীর আহমেদ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের পর প্রবর্তন করেন বিট পুলিশিং। এরপর বড় ধরনের অপরাধ প্রবণতা লক্ষণীয়ভাবে কমতে শুরু করে। ২০২০ সালে মামলার সংখ্যা কমে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টিতে দাঁড়ায়। এক বছরে ৩৭ হাজার ৭৫৮টি মামলা কমে যায়, যা শতাংশের হিসাবে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

২০২১ সালে অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। এসময়ে অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা বেশি হওয়ায় তা সামগ্রিকভাবে মোট মামলার সংখ্যার ওপর প্রভাব ফেলে। তবে এ বছরও বড় ধরনের অপরাধের প্রবণতা কম দেখা গেছে।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) পুলিশ সদরদপ্তরের এক পরিসংখ্যান সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

jagonews24

বিট পুলিশিং কার্যক্রমে অপরাধ কমছে। ছবি: সংগৃহীত

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২১ সালে দেশে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫১০টি মামলা হয়। এরমধ্যে উদ্ধারজনিত মামলার সংখ্যা বেশি। এসময়ে কমেছে বড় অপরাধের মামলা। খুন, নারী নির্যাতন, অপহরণের মতো অপরাধ কমেছে। ২০১৯ সালে দেশে মোট ৩ হাজার ৬৫৩টি হত্যা মামলা হয়। ২০২০ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৫৩৯টি। অন্যদিকে ২০২১ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ২১৪টিতে।

অর্থাৎ ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে খুনের মামলা ৩ দশমিক ২২ শতাংশ এবং ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে ১০ দশমিক ১১ শতাংশ কমেছে।

পরিসংখ্যানে নারী নির্যাতন মামলার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ২০১৯ সালে নারী নির্যাতন সংক্রান্ত ঘটনায় ১৩ হাজার ৫১৭টি মামলা হয়। ২০২০ সালে এ সংক্রান্ত মামলা হয় ১৩ হাজার ৪৩১টি এবং ২০২১ সালে হয় ১২ হাজার ৮৫৫টি। অর্থাৎ তুলনামূলক হিসেবে ২০২০ সালে শূন্য দশমকি ৫৪ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ নারী নির্যাতন মামলা কমেছে।

অপহরণ মামলার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ২০১৯ সালে দেশে ৫৯৮টি এবং ২০২০ ও ২০২১ সালে যথাক্রমে ৪৮৬ ও ৪৪৫টি মামলা হয়েছে। অর্থাৎ ২০২০ সালে ২৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৯ দশমিক ২১ শতাংশ অপহরণ মামলা কমেছে।

বড় ধরনের এসব মামলা কমে যাওয়া এবং বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে পুলিশের এ তৎপরতাকে সামগ্রিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য ইতিবাচক মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানুষের দোরগোঁড়ায় সরকারি সেবাকে নিয়ে যাওয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার রক্ষায় সারাদেশকে ৬ হাজার ৯১২টি বিটে ভাগ করে দেশব্যাপী বিট পুলিশিং প্রবর্তন করা হয়।

বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে থানার বিদ্যমান সেবাকে ইউনিয়ন পর্যন্ত এবং পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে ওয়ার্ড পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। প্রো-অ্যাকটিভ পুলিশিং নিশ্চিত করতে চালু হওয়া বিট পুলিশিং প্রত্যক্ষভাবে কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছে।

টিটি/এএএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]