মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সব এজেন্সিকে সুযোগ দেওয়ার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৫ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২২

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে নির্দিষ্ট কয়েকটি এজেন্সিকে সুযোগ না দিয়ে সব এজেন্সিকে সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা। এছাড়াও সব এজেন্সি ও বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার (২৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এজেন্সির সভাপতি টিপু সুলতান বলেন, দেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি একই জামানত দিয়ে লাইসেন্সপ্রাপ্ত হয়েছে। আইনগতভাবে সব এজেন্সি সমমানের হওয়া স্বত্তেও ২৫ এজেন্সি মূল সিন্ডিকেট আর তাদের সাব এজেন্ট হবে ২৫০ এজেন্সি। এটি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য চরম অবমাননাকর। একটি রিক্রুটিং এজেন্সির অন্য একটি সমমানের রিক্রুটিং এজেন্সির সাব এজেন্ট কোনো অবস্থায়ই হতে পারে না।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠাতে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি কেন অধিকারপ্রাপ্ত হবে না, জানতে চেয়ে তিনি বলেন, ২৫ এজেন্সি ও ২৫০ সাব এজেন্সি নির্ধারণে যোগ্যতার মাপকাঠিই বা কী?

প্রায় তিন বছর শ্রমিক রপ্তানি বন্ধ থাকার পর গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি চুক্তি সই হয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, চুক্তি সই হওয়ার সময় ২০১৬ সালে যে সিন্ডিকেটচক্র কর্মীদের অর্থ লুট করেছে, সেই সংঘবদ্ধ চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে এবারও দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের ভুল তথ্য, শক্তি ও অর্থ দিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে চুক্তিতে একটি শর্ত জুড়ে দেয়। আর তা হলো বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সিলেক্ট করার ক্ষমতা মালয়েশিয়া সরকারের হাতে রাখা। আর এই শর্তের কারণে আবারও সিন্ডিকেট হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং সিন্ডিকেটকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি দাবি জানান, আমাদের দাবি খুবই সাধারণ ও স্বাভাবিক। কোনো প্রকার সিন্ডিকেট, মনোপলি ও শ্রেণিবিভাজন ছাড়া সব বৈধ এজেন্সির জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখা সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই সব বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সিকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রপ্তানির সুযোগ দিতে হবে।

টিপু সুলতান বলেন, ২০১৯ সালের আইন অনুযায়ী আমাদের সরকার শ্রমিকদের লাইসেন্স দেবে। কিন্তু কারা ব্যবসা করবে সেটা ঠিক করবে মালয়েশিয়া সরকার। আমি মনে করি এটা আমাদের স্বার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন। আমার দেশ থেকে কারা কাজ করবে সেটা নির্ধারণ করবো আমরা, মালয়েশিয়া সরকার বা অন্য কোনো সরকার নয়।

এজেন্সির একাধিক নেতা বলেন, আমরা জনশক্তি রপ্তানিতে যেমন কোনো সিন্ডিকেট চাই না, তেমনি চাই না বিমানভাড়ার অস্বাভাবিক মূল্য। কিছু এজেন্সি তিন থেকে চার মাস আগে বাংলাদেশ বিমান থেকে কম টাকায় টিকিট কিনে মজুত করে পরবর্তীতে বেশি দামে বিক্রি করছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যগামী কর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলনে চারটি প্রস্তাব তুলে ধরেন তারা
১. জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিমানসহ মধ্যপ্রাচ্যগামী কর্মীদের জন্য চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।
২. রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের জন্য বাংলাদেশ বিমানসহ সব এয়ারলাইন্সে লেবার ফেয়ার নির্ধারণ করতে হবে।
৩. বাংলাদেশকে ওপেন স্কাই ঘোষণা ও বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
৪. বাংলাদেশ বিমানসহ সব বৈদেশিক এয়ারলাইন্সকে যৌক্তিক ভাড়া নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর নজরদারির আওতায় আনতে হবে এবং দুই-তিনগুণ মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে জড়িতদের (সিন্ডিকেট) দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রিক্রুটিং এজেন্সি ঐক্য পরিষদের মহাসচিব আরিফুর রহমান, বায়রা সদস্য কল্যাণ পরিষদের মহাসচিব লিমা বেগমসহ একাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক।

এএএম/বিএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]