‘কয়েকজনের কারণে ঢাকাবাসীর জীবন অতিষ্ঠ হতে পারে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২১ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২২

রাজধানীতে অবৈধ দখলদারিত্ব ও স্থাপনা নির্মাণ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, কয়েকজন মানুষের কারণে রাজধানীর দুই কোটি মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হতে পারে না। এটা কখনোই করতে দেওয়া হবে না। অবৈধভাবে দখল হওয়া সব খাল উদ্ধার করা হবে।

তিনি বলেছেন, যারা সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন তারা স্বাভাবিকভাবেই এখন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এর ফলে সব জায়গায় একটি মেসেজ চলে যাবে যে, অবৈধভাবে অবকাঠামো নির্মাণ করে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই।

এরইমধ্যে যেসব খাল উদ্ধার হয়েছে সেগুলো সংস্কার করা হলে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি নগরবাসীকে একটি আধুনিক-দৃষ্টিনন্দন ও বাসযোগ্য নগর উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় রামচন্দ্রপুর খালের অবৈধ স্থাপনা উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, শুধুমাত্র এখানকার খাল উদ্ধার হবে আর অন্যগুলো হবে না এমনটা ভাবা উচিত নয়। ঢাকা শহরের যত জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন বা করার পাঁয়তারা করছেন তারা সতর্ক হবেন। কোনো দখলবাজকে বরদাস্ত করা হবে না। জনগণের কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সবকিছু করবে সরকার।

তিনি বলেন, রাজধানীর সব খাল একটির সঙ্গে অন্যটির সংযোগ তৈরি করে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট চালু করা হবে। এ লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগ সংস্থার সঙ্গে একাধিক সভা করে প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে। ঢাকা শহরের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতেই হবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধির হাতে দায়িত্ব দিলে খাল উদ্ধার করা সহজ হবে। কারণ, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে জনগণ থাকে। তাদের ঐক্যবদ্ধ করলে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব। সে উদ্দেশ্যেই রাজধানীর কিছু খাল ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে দুই সিটি করপোরেশন জোরালো অভিযান চালিয়ে খাল উদ্ধার কাজ শুরু করেছে, যার ফলাফল এখন দৃশ্যমান।

jagonews24

তিনি বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য ঢাকা সিটির দুই মেয়র আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে সরকারের পূর্ণ সমর্থন আছে এবং যে কোনো চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার পাশে থাকবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, রাজধানীতে পরিকল্পিতভাবে ট্রাক ও বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ করার কাজ চলছে। যেখানে যে পরিমাণ রাস্তার দরকার তা নির্মাণ করতে হবে। আবাসনের জায়গায় আবাসন হবে। সবার জন্য কল্যাণকর ঢাকা গড়তে যা যা দরকার সব করতে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।

তাজুল ইসলাম জানান, ঢাকা শহরে এখনও ৫৩টি খালের অস্তিত্ব রয়েছে। এসব খাল উদ্ধার করে যদি নৌ চলাচল ও দুপাশে ওয়াক ওয়ে নির্মাণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন করা যায়, তাহলে মানুষ ভেনিসে ঘুরতে না গিয়ে ঢাকা শহরে ঘুরতে আসবে।

রাজধানীর অন্যান্য খালাগুলো সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে থাকা খালগুলো হস্তান্তরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খালগুলোর হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন।

মন্ত্রী জানান, পৃথিবীর অনেক সিটি করপোরেশন নিজেদের অর্থায়নে এয়ারপোর্ট, সাবওয়ে, টানেল এবং মেট্রোরেল করেছে। আমাদের সিটি করপোরেশনগুলো আগের তুলনায় অনেক সক্ষমতা অর্জন করেছে। আমি বিশ্বাস করি, অচিরেই দেশের সব সিটি করপোরেশন আত্মনির্ভরশীল হবে।

উদ্ধার অভিযান পরিদর্শনকালে উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, স্থানীয় সংসদ সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি, নগর স্থপতি এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

এমএমএ/এমকেআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]