মিরপুরে বেড়েছে চোরের উপদ্রব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১০ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২২

মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় চুরি বেড়েছে। দুই মাস ধরে বিদ্যুতের মেইন সংযোগ তার, বাইসাইকেল ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চুরি হচ্ছে। প্রতিদিন মাঝরাতে এসব জিনিস চুরি হচ্ছে বলে একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, মিরপুর ৬০ ফিট সড়কের মাইকের দোকানের মোড়ের আশপাশে মঙ্গলবার মধ্যরাতে ছয়টি বাড়ির বিদ্যুৎতের তার চুরি হয়েছে। এ কারণে বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেসব বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ভুক্তভোগীদের নতুন করে ডেসকো থেকে তার কিনে ও সংযোগ ফি দিয়ে সেটি সচল করেন। প্রতিটি বাড়ির বিদ্যুতের মূল সংযোগের মাঝের অংশ থেকে তার কেটে নেওয়া হয়েছে। এজন্য ভুক্তভোগীদের মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। শুধু বিদ্যুৎতের তার নয়, প্রতিদিন মিরপুরের বিভিন্ন এলাকার বাড়ি থেকে বাইসাইকেল ও প্রয়োজনীয় জিনিস চুরি হচ্ছে।

জানতে চাইলে মাইকের দোকানের মোড়ের উত্তর পীরেরবাগের একটি বাড়ির মালিক রায়হান হোসেন খান জাগো নিউজকে বলেন, আনুমানিক রাত সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যায়। পার্শ্ববর্তী সব স্থানে বিদ্যুৎ রয়েছে দেখে বের হই। তখন দেখি বাড়ির সামনে মূল সংযোগের তার ঝুলছে। সংযোগ যুক্ত হওয়ার খুঁটির সামনে কিছু অংশ আর বাড়ির সামনে তারের কিছু অংশ রেখে বাকিটা কেটে নেওয়া হয়েছে। শুধু আমাদের সংযোগ নয়, পাশের আরও পাঁচটি বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগের তার চুরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পরে সংশ্লিষ্ট ডেসকো অফিসে যোগাযোগ করলে তারা নতুন করে তার কিনে ও সংযোগ ফি দিতে বলেন। যেহেতু মূল সংযোগ তার দোকানে কিনতে পাওয়া যায় না, তাই ডেসকো থেকে নিতে হয়েছে। নতুন করে সংযোগ স্থাপন করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। তার চুরি হওয়ায় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার চুরির সঙ্গে ডেসকোর কর্মচারীরা যুক্ত। তিনি বলেন, মেইন লাইনের তার ডেসকোর লোক ছাড়া কাটা সম্ভব নয়। কর্মচারীদের যোগসাজশে প্রতিদিন বিভিন্ন বাড়ির তার চুরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তার।

শুধু বিদ্যুতের তার চুরি নয়, প্রতিদিন মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিস চুরি হচ্ছে বলে জানান মিরপুরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসমাইল হোসেন মোল্লা। তিনি বলেন, দুই মাস ধরে এলাকায় চুরি বেড়েছে। গত সপ্তাহে আমার বাড়ি থেকে একটি বাইসাইকেল হারিয়ে গেছে। পরে সেটি পুরাতন জিনিস বিক্রির দোকান থেকে উদ্ধার করেছি। মানুষ ঘুমিয়ে গেলে গভীর রাতে অন্য এলাকা থেকে বখাটেরা এসে এসব চুরি করছে বলে মনে করেন তিনি।

ইসমাইল হোসেন মোল্লা আরও বলেন, গত কয়েকদিনে ২০টির মতো বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগের তার চুরির অভিযোগ পেয়েছি। দুই মাসে ১০টি বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগও পাই। মিরপুর মডেল থানার ওসিকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেবেন বলে জানালেও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ এখনো চোখে পড়েনি।

বৈদ্যুতিক তার চুরির বিষয়ে মিরপুর এলাকার ডেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মিরাজ মোহাম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিদিন সকালে বিদ্যুৎ সংযোগের তার চুরির ঘটনা শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি লিখিতভাবে মিরপুর মডেল থানায় জানানো হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। হঠাৎ কেন এমন ঘটনা ঘটছে সেটি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

ডেসকোর কর্মচারীরা তার (ক্যাবল) চুরির সঙ্গে যুক্ত এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।

বিভিন্ন মহল থেকে চুরির অভিযোগ করা হলেও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মিরপুর মডেল থানার ওসি মোস্তাজিরুর রহমান। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমার থানা এলাকাধীন কোথাও চুরি হয়েছে কোনো অভিযোগ পাইনি। প্রতিদিন বিদ্যুতের তার চুরি হচ্ছে এটি আগে শুনিনি। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এমএইচএম/কেএসআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]