‘আজ ঘুমাতে যাবেন, কাল দেশ দুর্নীতিমুক্ত হবে তা অসম্ভব’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫১ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২২

অনেক প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘আজকে ঘুমাতে যাবেন, কাল দেশ দুর্নীতিমুক্ত হবে, এমনটা সম্ভব না। দুর্নীতি দমনে দুদক ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছে।’

দুর্নীতির ধারণা সূচক নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বুধবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে তিনি এ কথা বলেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের কোনো রিঅ্যাকশন নাই। এটা গ্রহণ করার বিষয় না, আবার প্রত্যাহারের বিষয়ও না।’

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘দেখেন এটা বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের একটা প্রতিবেদন। তারা একটা রিপোর্ট দিয়েছে, তাদের ক্রাইটেরিয়া আছে। আট প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ইনডেক্স থেকে কোট করে তারা এইটা করেছে।’

বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। বার্লিনভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী এই সংস্থার প্রকাশ করা ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২১’-এ এই তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পক্ষ থেকে এ তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

প্রতিবেদনের তথ্য দুদক আমলে নেবে জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এটা দেখবো যাচাই করে। যদি আমাদের কাজের কোনো সুপারিশ থাকে, সেগুলো বাস্তবসম্মত হলে ভবিষ্যতের উন্নতির জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।’

কোন খাতে কেমন দুর্নীতি হয় এ বিষয়ে দুদকের কোনো গবেষণা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা রিসার্চ উইং আছে। কোভিডের জন্য দুই বছর যাবত আমাদের প্রতিরোধ কার্যক্রম একটু স্তিমিত হয়ে আছে। দুর্নীতি বন্ধে ২২টা মন্ত্রণালয়ে আমরা সুপারিশ করেছি। সেগুলো মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করেছে কিনা সেই এক্সিকিউটিভ ক্ষমতা আমাদের নাই। সেটা তাদের বিষয়।’

দেশে দুর্নীতি বেড়েছে না কমেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি বাড়লো, না কমলো বা দুর্নীতি কী জন্য এইটা আমরা বলবো না। আমাদের কাছে দুর্নীতির অভিযোগ আসলে সেটা অনুসন্ধান করে বিচারের আওতায় আনা হলো আমাদের কাজ। বিচারকার্যে সাহায্য করা। মিডিয়ায় বিভিন্ন খবর উঠে আসছে এগুলোর ওপর নির্ভর করে সাংবাদিকরা বলবে দুর্নীতি বাড়লো না কমলো। টিআই কী হিসাব করে দুর্নীতির সংখ্যা বের করেছে সেটা আমাদের জানা নেই।’

‘কোভিডের কারণে গত দুই বছর অভিযোগ কম এসেছে। তবে সেটা সরলীকরণ করা যাবে না, অভিযোগ কম আসছে এখন কী আমি বলতে পারি দুর্নীতি কম হয়েছে?’

বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দুদক কাজ করছে জানিয়ে মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহ বলেন, ‘সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা করেই আমরা কাজ করছি। আমরা চাচ্ছি দুর্নীতি যেমন দমন হয়, দিন দিন যেন অবস্থার উন্নতি হয়। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দুর্নীতির ব্যাপারে নমনীয় বা জিরো টলারেন্স এইটা দেখানোয় দুদকের কোনো সুযোগ নাই। এটার একমাত্র কাজ দুর্নীতি দমন। পৃথিবীর সব দেশেই দুর্নীতি আছে। মাত্রা কম-বেশি আছে। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতির ধারণাই পালটে যাচ্ছে। এজন্য আমাদের প্রশিক্ষিত লোকবল দরকার।’

টিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের দুর্নীতি সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ১০০’র মধ্যে ২৬। গত চার বছর ধরে এই অবস্থান বিদ্যমান রয়েছে। এই স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ তালিকায় নিচের দিক থেকে ১৩তম অবস্থানে আছে। ২০২০ সালে নিম্নক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান যেখানে ছিল ১২তম। ২০২১ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে।

এসএম/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]