কলাবাগানে ১৬ একর জমির মালিকানা বুঝে পাচ্ছেন মালিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫৪ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২২
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী

রাজধানীর কলাবাগানে সরকারের অধিগ্রহণ করা ১৬ একর জমির মালিকানা ৭০ বছর পর বুঝে পাচ্ছেন মালিকরা। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে ধানমন্ডি মৌজার অধিগ্রহণকৃত জমির জটিলতা নিরসন সংক্রান্ত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এই জমি অবমুক্ত (মালিক হিসেবে সরকারের নাম বাদ) করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দখলে থাকলেও আইনি জটিলতার কারণে এসব জমির মালিকরা কিংবা তাদের ওয়ারিশরা ৭০ বছর ধরে জমির খাজনা খারিজ বা হস্তান্তর করতে পারছেন না। এ কারণে তারা তাদের জমি আনুষ্ঠানিক কিংবা অর্থনৈতিকভাবে ফলপ্রসূ ব্যবহারও করতে পারছিলেন না। অবমুক্ত হওয়ার ফলে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে।

ভূমিমন্ত্রী কলাবাগান এলাকার ১৪ দশমিক শুন্য শূন্য ৪৬ একর জমি অবমুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া আরও দুই দশমিক ৮৬৫৪ একর জমির মধ্যে যে সব জমি বর্তমানে মালিকপক্ষের দখলে আছে সেইসবও অবমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে কলাবাগানে অধিগ্রহণকৃত/অধিগ্রহণের জন্য নির্দেশিত কিন্তু ব্যক্তির নামে রেকর্ডকৃত কিংবা দখলে থাকা প্রায় ১৬ একর জমি আগের মালিকের অনুকূলে শিগগির অবমুক্ত করা হবে।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকার বা স্বার্থ সংরক্ষণ করা এই সরকারের অঙ্গীকার। জনস্বার্থ বিবেচনায় ইতোপূর্বে খাসমহাল সংক্রান্ত জটিলতা যা দীর্ঘদিন যাবত অনিষ্পন্ন ছিল তা আজ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

অবমুক্ত প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয় এবং প্রতারক ও দালালরা যেন কোনো ধরনের হয়রানি করতে না পারে, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

১৯৪৮-৪৯ সালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন নির্মাণে গণপূর্ত বিভাগের (তৎকালীন সিঅ্যান্ডবি) অনুকূলে রাজধানীর ধানমন্ডিসহ ৮টি মৌজায় মোট ৪৭২ দশমিক ৬৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৫৩ সালের ৮ জানুয়ারি গেজেটের মাধ্যমে অধিগ্রহণ চূড়ান্ত হয় এবং জমির দখল হস্তান্তরিত হয়।

কিন্তু গণপূর্ত বিভাগ ধানমন্ডি মৌজার সিএস ৬৭ নম্বর দাগের অধিগ্রহণকৃত ১৬ দশমিক ৮৭ একর জমির মধ্যে ১৬ দশমিক শূন্য ৬ একর জমিতে কোনো সময়ে দখলে যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে জমির পূর্ব মালিকরা ওয়ারিশ বা অন্যান্যসূত্রে এই জমিতে বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের মাধ্যমে ভোগ দখলে আছেন। ১৯৬৮ সালে সরকার ভূমি মালিকদের উচ্ছেদ নোটিশ করলে তারা সরকারের উচ্ছেদ আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের রায় পান।

১৪ দশমিক শূন্য শূন্য ৪৬ একর জমি সিএস, এসএ, আরএস এবং মহানগর জরিপে ব্যক্তির নামে এবং দুই দশমিক ৮৬৫৪ একর জমি সিটি জরিপে গণপূর্ত বিভাগের নামে রেকর্ড হয়। তবে এই জমির মধ্যে কিছু অংশ ব্যক্তির দখলে এবং কিছু অংশ গণপূর্ত বিভাগের দখলে আছে। এজন্য বিগত ৭০ বছর ধরে জমির মালিকরা এই জমির খাজনা খারিজ বা হস্তান্তর করতে পারছেন না।

জমির মালিকরা এই সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য ২০১৮ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদে উত্থাপিত হয়। এ বিষয়টির জটিলতা নিরসনে মন্ত্রিপরিষদ ভূমি মন্ত্রণালয়কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১ মার্চ ভূমি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় এ জটিলতা নিরসনে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় কমিটির প্রতিবেদনসহ ঢাকা জেলা প্রশাসকের বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও অন্যান্য সংস্থার মতামত পর্যালোচনা করা হয়। এসময় ভূমিমন্ত্রী ব্যক্তির নামে রেকর্ডকৃত ও দখলে থাকা ওই ১৪ দশমিক শূন্য শূন্য ৪৬ একর জমি আগের মালিকের অনুকূলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন।

এছাড়া সিটি জরিপে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নামে রেকর্ডকৃত দুই দশমিক ৮৬৫৪ একর জমির মধ্যে গণপূর্ত বিভাগের দখলে থাকা অংশ ছাড়া অবশিষ্ট জমি অবমুক্ত করার নির্দেশও দেন মন্ত্রী।

সভায় ভূমি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব (অধিগ্রহণ) মুহাম্মদ সালেহউদ্দীন, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক (ভূমি রেকর্ড) মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শওকত হোসেন, ঢাকার জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলামসহ ভূমি মন্ত্রণালয় ও এবং গণপূর্ত বিভাগের আওতাভুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএমএম/কেএসআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]