ইসি আইনে কাউকে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়নি: আইনমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩৭ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২২

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সংসদে পাস হওয়া ইসি গঠন আইনে কাউকে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ ইনডেমনিটির ওই পথে হাঁটে না। ইনডেমনিটি কথা শুনলেই আওয়ামী লীগের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। বিএনপি ইনডেমনিটি দিয়ে আমাদের রক্তক্ষরণ করিয়েছে। এই আইনে লিগ্যাল কাভারেজ দেওয়া হয়েছে। এই আইনে কেউ অন্যায় করে থাকলে তাকে প্রকেটশন দেওয়া হয়নি।

জাতির জনককে হত্যার কথা স্বীকার ও খুনিদের পুনর্বাসিত করার কথা মেনে জনগণের কাছে মাফ চাইলে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগ ঐক্যমতে আসবে বলে জানান আইনমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সংসদে পাস হওয়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২ বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের ওপর সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বিলটি পাসের সময় জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা অভিযোগ করেন, খসড়া আইনটি ‘তড়িঘড়ি করে’ আনা হয়েছে।

তড়িগড়ি করে আইন পাস প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি বলেছি এটা তড়িগড়ি করে করার আইন নয়, এটা সত্য। বর্তমান কমিশনের মেয়াদের মধ্যে আইন করা সম্ভব নয় এটাও বলেছি। কারণ আমি বলেছিলাম করোনার সময় যে সীমিত সময়ের জন্য সংসদ বসে এর মধ্যে এ আইন পাস করা কঠিন হবে। সংসদকে শ্রদ্ধা জানিয়েই এটা বলেছিলাম।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, সুজনের একটি প্রতিনিধি দল আমার কাছে গিয়ে আইনের একটি খসড়া দিয়ে পাসের প্রস্তাব করেন। আমি আইনটি পাস করার জন্য সময় লাগবে বলে তাদের জানাই। তারা অর্ডিনেন্স করে এটা করার প্রস্তাবও দেন। আমি বললাম সংসদকে পাস কাটিয়ে এই আইন করবো না। সংসদে নেওয়া ছাড়া এ আইন আমরা করবো না।

তিনি বলেন, এবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যেসব দল সংলাপ করেছে গিয়েছে যারা যাননি, তারা সবাই নির্বাচন কমিশন নতুন আইনের মাধ্যমে গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্য কোনোভাবে গঠন করা যাবে না। গত ১৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ করে। রাষ্ট্রপতি আইনের বিষয়ে তার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। আমরা তড়িঘড়ি করিনি। এ আইনের কথা অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যখন রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ হয় তখনই এই আইনের বিষয়ে কথা হয়েছিল। তখনই প্রধানমন্ত্রী এ আইনটি করার জন্য বলেছিলেন।

আইনে সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাবনা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ইসি গঠনে সার্চ কমিটি গঠনের বিষয়ে ২০১২ সালে রাজনৈতিক দলগুলো সন্মত হয়েছিল। তখন থেকেই এই সার্চ কমিটির ধারণা এসেছে। এটা কল্পনা থেকেও আসেনি আকাশ থেকেও পড়েনি। এটা তো নতুন আবিষ্কার নয়। সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত দুই কমিশন হয়েছে। যার কারণে এটা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ফলে জনমত যাচাইতো দশ বছর ধরে হয়ে গেছে। বিষয়টি হলো তালগাছটি না পেলে অনেক কমপ্লেইন থাকে।

তিনি বলেন, দুইজন বিশিষ্ট নাগরিক কারা হবে সেটা নিয়ে কথা হচ্ছে। আমরা তো আইনে কোথাও বলিনি যে, সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে তাদের নিযোগ দেওয়া যাবে না। বিশিষ্ট নাগরিকের ক্রাইটেরিয়া তো বলে দেওয়া হয়নি। কেবল রাষ্ট্রপতিকে এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

বক্তব্য এক্সপাঞ্জ বিষয়ে বিএনপির হারুনের বক্তব্যর জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, উনি আগে অসংসদীয় ভাষায় কথা বলেছিলেন বলেই তা এক্সপাঞ্জ হয়। আমি অসংসদীয় ভাষায় কোনো কথা বলিনি। আমারটা এক্সপাঞ্জ হবে কেন? আমি ভাষা যেটা ব্যবহার করি তা হলো বাংলার ক্লোকিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ। বাংলার জনগণ যেন শুনে বুঝতে পারেন।

বিএনপির এমপিদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির জবাবে মন্ত্রী বলেন, ওনারা তো তালগাছ চান। ওনারা কিছুই মানেন না যতক্ষণ তালগাছটা ওনাদের না হয়। এই সংসদই বলেছিলো তত্ত্ববধায়ক সরকার হবে তিন টার্মের জন্য। তত্ত্ববধায়ক সরকার নিয়ে মামলা হলে কোর্ট দু'টি বিধানকেই অবৈধ ঘোষণা করে। তারপরও ওনারা এটার কথা বলবেন। উনারা আদালতের রায়ও মানেন না। ওনাদের কথা হলো যেটা কায়দে আজম মোহাম্মদ আলী করেছেন সেটা ভালো। কিন্তু যুদ্ধ করে জাতির জনক যেটা করে দিয়েছেন সেটা ভালো না।

বিএনপির এমপিদের ঐক্যমতের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঐক্যমত করতে হলে ওনাদের সত্যকে স্বীকার করতে হবে। আর সত্যটি হচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সত্য হচ্ছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ওনারা মানে বিএনপি বঙ্গবন্ধুকে খুন করেছেন। সত্য হলো- ওনারা ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করতে দেননি। খুনিদের পুনর্বাসিত করেছেন। এসব সত্য মেনে জনগণের কাছে মাফ চাইলে আমরা ঐক্যমতে আসবো। এ প্রস্তাব মেনে নিলে আমরা ঐক্যমতে আসবো।

সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত আগের দুই কমিশনকে হেফাজত প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ইনডেমনিটি আর লিগ্যাল কাভারেজ এক কথা নয়। ইনডেমনিটি হচ্ছে অন্যায় করার পরে তাকে প্রকেটশন দেওয়ার জন্য আইন করা। লিগ্যাল কাভারেজ হচ্ছে যেকোনো বৈধ কাজ যেটার লিগ্যাল কাভারেজ ছিলো না সেটা তার আওতায় আনা। ইনডেমনিটি কথা শুনলেই হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। ইনডেমনিটি আওয়ামী লীগ দেয় না, এটা বিএনপি দেয়। তারা ইনডেমনিটি দিয়ে আমাদের রক্তক্ষরণ করিয়েছে। ২১ বছর আমাদের অপেক্ষা করিয়েছে জাতির জনকের হত্যার বিচার করতে। ইনডেমনিটির কথা আর আমাদের শুনাতে আসবেন না। আমরা ওই পথে হাঁটি না। এ আইনে লিগ্যাল কাভারেজ দেওয়া হয়েছে। ২০১২ সালে যে কাজটা করা হয়েছে সেটা থেকে শুরু করে সেটার লিগ্যাল কাভারেজ। এ আইনের মধ্যে কেউ অন্যায় করে থাকলে তাকে প্রকেটশন দেওয়া হয়নি। সেই কারণে তাদের যেসব প্রস্তাব গ্রহণ করা যায় না। তাদের বলবো এ প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে অনুরোধ করবো। না হলে সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করবো এসব প্রস্তাব ভোটে হারিয়ে দেওয়ার জন্য।

পরে সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর বলা হয়েছিল ৩ মেয়াদে এটি থাকবে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল সংসদ চাইলে দুটি নির্বাচন হতে পারে। সংসদ এটি চায়নি। সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ শেষে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি যতগুলো সংশোধনী গ্রহণ করেছেন, তার মনে হয় এর আগে কখনো এত বেশি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়নি।

এর আগে সংশোধনী প্রস্তাব দিয়ে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, বিএনপি দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। তারা একটি অস্বাভাবিক সরকার আনতে চায়। তাদের সংসদ সদস্যরা এখানে সংশোধনী প্রস্তাব দিলেও এরই মধ্যে নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। তিনি বলেন, বিএনপি বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক মানে কিনা, ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা, যুদ্ধাপরাধ, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার এসব মানে কি না স্পষ্ট করতে হবে। এসব না মানলে এই যুদ্ধ বন্ধ হবে না।

ইনু বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অনেকফাঁক-ফোকড় ছিল, এর মধ্য দিয়ে ইয়াজউদ্দীনকে ক্ষমতায় এনে নির্বাচন করতে চেয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ছুতোয় বিএনপি একটি অস্বাভাবিক সরকার গঠন করতে চায়।

অনুসন্ধান কমিটি যে ১০ জনের নাম প্রস্তাব করবেন তাদের নাম ঠিক করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি অনুসন্ধান কমিটিকে কোনো পরামর্শ দিতে পারবেন না।

বিএনপির রুমিন ফারহানা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য। স্বাধীনভাবে রাষ্ট্রপতি কোনো কাজ করতে পারেন না। কিন্তু রাষ্ট্রপতিকে একটি ইল্যুশন হিসেবে সামনে আনা হয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য আন্দোলন করেছিল। তখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি ছিল। এখন সে ঘাটতি আরও অনেক বেড়েছে। জাতীয় থেকে স্থানীয় সব নির্বাচন মাগুরার নির্বাচনের চেয়ে অনেক খারাপ হয়। সুতরাং ৯৬ সালের চেয়ে এখন তত্ত্বাবধাক সরকার আরও বেশি দরকার।

রুমিন বলেন, আদালত বলেছিল সংসদ চাইলে আরও দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে সব দল এই ব্যবস্থা রাখার পক্ষে মত দিয়েছিল। পরে অজানা কারণে এটি বাতিল করা হয়। এখন যে পরিস্থিতি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচনই সম্ভব না।

জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কারণে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয়েছে জাতীয় পার্টিকে। এটি একটি অসাংবিধানিক ফর্মুলা।

সাবেক সিইসি এটিএম শামসুল হুদার বক্তব্যের সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক বলেন, যে আমলা এরশাদ, বিএনপি, আওয়ামী লীগ সব সরকারের আমলে আরামে চাকরি করেছেন, পরে চাকরি শেষে আবার পঁচ বছরের জন্য সিইসি হয়েছেন। তারা ওপরেরটা খান নিচেরটাও খান।

ওয়ার্কার্স পার্টির মোস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, যারা দ্রুত আইন দাবি জানিয়েছিলেন আইনটি করার উদ্যোগ নেওয়ার পর তারাই আবার উল্টে গেলেন। তিনি অনুসন্ধান কমিটি যেসব নাম প্রস্তাব করবে সেগুলো জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে পাঠানোর বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করেছিরেন।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, এর আগে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, আইনটি করার জন্য সময় প্রয়োজন। এই আইনটি নিয়ে অনেক প্রশ্ন উত্থাপন হয়েছে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। তিনি নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করেছিলেন। এ ছাড়া অনুসন্ধান কমিটি যে নামগুলো দেবে সেগুলো জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। বলেন, এটা হলে তা অনেক ইনক্লুসিভ হবে। এ ছাড়া অনুসন্ধান কমিটি যে নামগুলো প্রস্তাব করবে সেগুলো অন্তত প্রকাশ করা এবং এরপর জনমত বিবেচনা করে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন এ ব্যবস্থা করারও দাবি জানান মেনন।

মেনন বলেন, বিএনপি আইন নয় সরকারের উৎখাত চায়। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে লাভ নেই।

বিএনপির হারুনুর রশীদ একটি নির্বাচন কমিশন আইন গঠনের দাবি জানান। তিনি বলেন, সংবিধানে বলা আছে নির্বাহী বিভাগের দায়িত্ব ইসিকে সহায়তা করা। কিন্তু না করলে কী হবে তা বলা নেই। এসব নিয়ে একটি পুরো আইন হওয়া উচিত। এই আইনটিকে সরকারের কূটকৌশল আখ্যা দিয়ে হারুন বলেন, ২০১৪ সালে বিনাভোটের নির্বাচন হয়েছে, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে আগামীতে দিনের বেলা নতুন কৌশলে নির্বাচন করবে কি না, তা নিয়ে মানুষের প্রশ্ন আছে। এখন যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তাতে নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এ বিষয়ে আলোচনার করার জন্য ব্যবস্থা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বাছাই কমিটি পাঠানোর প্রস্তাবের ওপর বক্তব্যকালে গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান বলেন, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা নেই। এই ইসির সুবিধাভোগী ছাড়া সবাই বলবে তারা ব্যর্থ। কমিশনের সরকারের আকাঙ্ক্ষার বাইরে কিছু করতে পারে না।

তিনি বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে গিয়ে যে আইন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি এ আইনে তার প্রতিফলন ঘটেনি। আইনটি বঙ্গবন্ধুর আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে অবাস্তব।

জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম বলেন, সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ সংশোধন না করে এ আইন করা হলে তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। এ আইনে প্রস্তাবিত সার্চ কমিটির সদস্য নির্বাচনের সংসদ সদস্যদের ভূমিকা রাখার বিধান যুক্ত করার দাবি করেন এ জাপা এমপি।

বর্তমান নির্বাচন কমিশন শতভাগ আমলা নির্ভর উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, বাংলাদেশে কী বিচারপতি ও আমলা ছাড়া বিশ্বাস করার মতো কেউ নেই? রাজনীতিবিদ বা সংসদ সদস্যদের কী বিশ্বাস করা যায় না? আওয়ামী লীগ এত বড় রাজনৈতিক দল, বলেন আপনাদের জন্ম ক্যান্টনমেন্টে জন্ম হয়নি তাহলে আপনারাও কেন বিচারপতি ও আমলার ওপর নির্ভর করবেন? চুন্নু তার বক্তব্যে স্পিকারের মাধ্যমে মনোনয়নে ‍দুইজন সংসদ সদস্যকে সার্চ কমিটির সদস্য হিসেবে রাখার প্রস্তাব করেন।

বিএনপির রুমিন ফারহানা বলেন, সঠিকভাবে নির্বাচন না হওয়ার কারণে বিশ্বের অনেক দেশে গৃহযুদ্ধ হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

তিনি বলেন, ইসি গঠনে সংবিধানে আইন করার কথা বলা আছে, কিন্তু অংশীজনের সঙ্গে কথা না বলে তাড়াহুড়ো করে আইন করা আইওয়াশ ছাড়া কিছুই নয়। এ আইনটি কেবল বিএনপি নয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা কঠোর সমালোচনা করেছেন। এটাকে ইসি গঠনের আইন না বলে অনুসন্ধান কমিটি গঠনের আইন বলা যেতে পারে।

রুমিন বলেন, সার্চ কমিটিতে সরকারি দল, সংসদের প্রধান বিরোধী দল ও তৃতীয় বৃহত্তম দলের একজন করে প্রতিনিধি থাকলে স্বচ্ছতা থাকতো। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে কেবল সরকারের ইচ্ছায় ইসি গঠন হবে। ওই কমিশন স্বাধীন হবে না, হবে সরকারের নির্বাচন বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বিএনপির হারুনুর রশিদ বলেন, জনগণ মনে করে সরকার আইন করার নামে তাদের সঙ্গে প্রহসন করছে। এ আইনটির সঙ্গে ২০১৭ সালের সার্চ কমিটির প্রজ্ঞাপনে খুব একটা অমিল নেই। কোনো আইনে মানুষের অকল্যাণে হলে তা করার থেকে না করাই ভালো। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সার্চ কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হলে তাদেরও বিতর্কিত করা হবে।

এই আইনে জনগণ হতাশ। তারা এটা চায় না। তাদের দাবি প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৫-৯৬ ও ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার চেয়েছিলেন তারা সেটা চায়। অবশ্যই নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। প্রমাণ করতে পারবেন না গত দুটি কমিশন জনগণকে আস্থাশীল করতে পেরেছে। তাই বলবো নির্বাচন কমিশনের নামে নাটক-প্রহসন বাদ দিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার দ্বার উন্মোচন করুন। প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাবো- আপনি উদ্যোগ নিন। সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসে নির্বাচনকালীন সময়ে কীভাবে নির্বাচনটি করবেন সেটা ঠিক করুন। সরকারে থাকতে একরকম বক্তব্য আর বিরোধীদলে গেলে অন্যরকম বক্তব্য ঠিক নয়।

এর আগে হারুন আইনটি উত্থাপনের দিনে আইনমন্ত্রী আইনের ভাষায় কথা বলেননি অভিযোগ করে ওই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি করেন এবং আইনের ভাষায় কথা বলার অনুরোধ করেন।

এইচএস/এমএএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]