জলবায়ু সহনশীল টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে বাংলাদেশ নিরলসভাবে কাজ করছে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:৩২ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২২
উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার/ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশে স্বল্প কার্বন সহনশীল টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আমরা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমণ কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ৭ম হওয়ায় অভিযোজন আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরির আয়োজনে মেজর ইকোনমিস ফোরাম অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট (এমইএফ) এর ভার্চুয়াল মিনিস্ট্রিয়াল মিটিংয়ে তার বাসভবন থেকে বক্তব্য প্রদানকালে পরিবেশ উপমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

হাবিবুন নাহার বলেন, গত বছরের ২৬ আগস্ট ইউএনএফসিসিসি-তে জমা দেওয়া হালনাগাদ এনডিসি-তে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে পরিমাপকৃত নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা ২১ দশমিক ৮৫ শতাংশে বাড়িয়েছে। আমরা নির্গমন হ্রাসের কভারেজ বাড়ানোর জন্য, কৃষি ও বর্জ্য খাত থেকে মিথেন নিঃসরণ হ্রাস করার জন্য শক্তি এবং শিল্প খাতের সঙ্গে কৃষি ছাড়াও বর্জ্য সেক্টরকে অন্তর্ভুক্ত করেছি। আমরা এরই মধ্যে ৫০ হাজার হেক্টর ধানের জমিতে বিকল্প ভেজানো ও শুকানোর পদ্ধতি ব্যবহার করে ধানের ক্ষেত থেকে নির্গমন কমাতে কাজ করছি। আমরা গবাদি পশুর উন্নত খাদ্য এবং উন্নত সার ব্যবস্থাপনা থেকে মিথেন নির্গমন কমাতেও কাজ করছি। বর্জ্য খাতে আমরা রাজধানী ঢাকা শহরের দুটি ল্যান্ডফিল সাইটের মধ্যে একটিতে বর্জ্য থেকে শক্তি কেন্দ্র স্থাপন করছি।

উপমন্ত্রী বলেন, কপ-২৬ এর আহ্বানের পর আমরা এরই মধ্যেই ২০২২ সালে আমাদের এনডিসি পুনর্বিবেচনা করার কথা ভাবতে শুরু করেছি। আমরা এরই মধ্যে ১২ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগের ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল করেছি। আমরা সম্প্রতি ন্যাশনাল সোলার এনার্জি রোডম্যাপ তৈরি করেছি এবং ২০৪১ সালের মধ্যে আমাদের শক্তির ৪০ শতাংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য উৎস থেকে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছি।

পরিবেশ উপমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে, যার অধীনে আমরা আমাদের উপকূলীয় এলাকায় ৪ গিগা ওয়াট বায়ুশক্তি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছি। শূন্য নির্গমন যানবাহনের ক্ষেত্রে, সরকার এরই মধ্যে হাইব্রিড গাড়ির প্রচারের জন্য প্রণোদনা দিয়েছে, যখন আমরা দীর্ঘমেয়াদে শূন্য নির্গমন যানবাহনের প্রচারের জন্য বৈদ্যুতিক যানবাহনের নীতিতে কাজ করছি। বনায়ন খাতে, আমরা ২০২৪ সালের মধ্যে ২৪ শতাংশে বৃক্ষের আচ্ছাদন বাড়ানোর জন্য প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি।

এমইউ/ইএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]