বড় বড় কোম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টার্গেট ছিল তাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৫৪ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২২
ছবি : সংগৃহীত

 

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডে (ডিবিবিএল) থাকা ওয়াল্টন গ্রুপের অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকা আরটিজিএস ফর্মে টান্সফারের একটি আবেদন আসে। সেই টাকা এবি ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় টান্সফারের আবেদন করা হয়।

ডিবিবিএল’র বসুন্ধরা শাখার ব্যবস্থাপকের কাছে টান্সফারের আবেদনটি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে ওয়াল্টন গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ওয়াল্টন গ্রুপ থেকে ব্যাংক ব্যবস্থাপককে বলা হয় তারা টাকা টান্সফারের আবেদন করেননি। পরে টান্সকফারের আবেদনটি স্থগিত করা হয়।

এ বিষয়ে ওয়াল্টন গ্রুপের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) ডিএমপির ভাটারা থানায় একটি অভিযোগ করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে টাকা টান্সফার করা চক্রের ১০ জনকে গ্রেফতার করে ভাটারা থানা পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন- মো. জাকির হোসেন (৩৫), ইয়াসিন আলী (৩৪), মাহবুব ইশতিয়াক ভূইয়া (৩৫), আনিছুর রহমান ওরফে সোহান (৪২), মো. দুলাল হোসাইন (৩৫), মো.আসলাম (৫৩), আব্দুর রাজ্জাক (৪৮), জাকির হোসেন (৪৪), মো. আনোয়ার হোসেন ভুইয়া (৫৬) ও মো. নজরুল ইসলাম (৫০)।

এর মধ্যে জাকির হোসেন ডাচ বাংলা ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখায় এসএমই সেলস টিম ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত।

ভাটারা থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জানুয়ারি সকালে চক্রটি ইএফটির মাধ্যমে ডিবিবিএলর বসুন্ধরা শাখা থেকে ওয়ালটন গ্রুপের অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকা বিডি লি. নামে একটি কোম্পানির এবি ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় থাকা অ্যাকাউন্টে টান্সফারের জন্য দুইটি ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার ফরম জমা দেওয়া হয়। তখন বসুন্ধরা ডিবিবিএল ব্যাংকের ম্যানেজারের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে বিষয়টি তিনি ওয়াল্টনকে গ্রুপকে জানান।

Fraud

তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াল্টনের কর্মকর্তারা ব্যাংকে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করেন। পরে তারা যাচাই-বাছাই করে দেখেন আবেদনটি একটি প্রতারক চক্র করেছে। তখন তারা টাকা ট্রান্সফারের আবেদনটি স্থগিত করেন।

আরও জানা যায়, চক্রের মূলহোতা জাকির হোসেন ডিবিবিএলে চাকরি করার সুবাদে ব্যাংকের সার্ভার থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করেন। যেসব অ্যাকাউন্টে টাকার পরিমাণ বেশি তাদের ব্যাংক হিসেব থেকে স্বাক্ষর জাল করে আরটিজিএসের মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফারের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার পর জাকির ইয়াসিন আলীকে স্বাক্ষর জালিয়াতির কাজ দেন।

পরে ইয়াসিন আলী স্বাক্ষর জাল করে মাহবুব ইশতিয়াক ভূইয়ার পরিচালিত অ্যাকাউন্ট এনআই করপোরেশন, বিডি লি. নামে এবি ব্যাংক লি. মতিঝিল শাখায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা করে জাল ব্যাংক দলিল তৈরি করে। পরে তারা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অন্যদের ঠিক করেন।

গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। দীর্ঘদিন দিন ধরে তারা ডিবিবিএলের সার্ভার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে টাকা আত্মসাৎ করার পরিকল্পনা করছিল।

এ বিষয়ে শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো.আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা এই প্রতারক চক্রের ১০ জনকে গ্রেফতার করেছি। চক্রটির কার্যক্রম ব্যাংকের ভেতর থেকে শুরু হয়। এর বাইরে চক্রটির সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে। আমরা যখন তাদের গ্রেফতার করতে যায় তখন তারা ইউনাইটেড গ্রুপের অ্যাকাউন্ট থেকে ১২ কোটি টাকা ট্রান্সফারের চেষ্টা করছিল।

তিনি বলেন, চক্রটি দুইভাবে কাজ করে। চক্রটির এক অংশ যে গ্রুপ বা ব্যক্তির টাকা তারা ট্রান্সফার করবে সেই নির্দিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে। অন্যদিকে চক্রটির আরেকটি অংশ যে শাখায় টাকা ট্রান্সফারের আবেদনটি জমা দেবে সেই শাখার ব্যবস্থাপককে তাদের পক্ষে আনার জন্য বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে ম্যানেজ করে।

চক্রটি এ রকম জালিয়াতি আরও করেছি কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি গুলশান বলেন, ওয়ালটন গ্রুপের টাকা তারা ট্রান্সফার করার চেষ্টা করছিল। এছাড়া গ্রেফতারের আগে তারা ইউনাইটেড গ্রুপের থেকে ১২ কোটি টাকা ট্রান্সফারের চেষ্টা করছিল।

এছাড়া এর আগে তারা এ রকম ট্রান্সফার করেছে কি না তা আমরা জানি না। তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

গ্রেফতাররা কেমন অ্যাকাউন্টে টার্গেট করে এমন প্রশ্নে ডিসি আসাদুজ্জামান বলেন, মূলত বাংলাদেশের বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিক বা গ্রুপের অ্যাকাউন্ট টার্গেট করে তারা। এমন প্রতিষ্ঠানকে তারা টার্গেট করে যেখান থেকে অ্যামাউন্ট ট্রান্সফার হলে যেন দ্রুত বুঝতে না পারে। কেননা বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিশাল অংকের টাকা থাকে।

টিটি/এমআরএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]