গৃহকর্মী নিয়োগে ডিএমপির ১৪ সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২২ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২

গৃহকর্মী (গৃহপরিচারক-পরিচারিকা) সেজে অপরাধী ঢুকে পড়ছে বাসায়। চুরি হচ্ছে মূল্যবান জিনিসপত্র। অনেক ক্ষেত্রে কথিত গৃহকর্মীর হাতে প্রাণ হারাতে হচ্ছে গৃহকর্তার।

এমন কিছু ঘটনা আমলে নিয়ে গৃহকর্মী নিয়োগের আগে ও পরে ১৪টি সুপারিশ তুলে ধরেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ। সম্প্রতি ডিএমপির পক্ষ থেকে এই সুপারিশ করা হয়।

গৃহকর্মী নিয়োগের আগে যা করবেন
১. কাজের বুয়া/কাজের লোক নিয়োগের আগে তার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র, সদ্য তোলা রঙিন ছবি, শনাক্তকারী ব্যক্তি, ব্যক্তির পরিচয় ও তার জাতীয় পরিচয়পত্র নিন।

২. সব তথ্য নেওয়ার পর নিকটস্থ থানায় কাজের বুয়া/কাজের লোকের তথ্য দিন এবং নিজের কাছেও রাখুন। তাতে তিনি যদি আগে কোনো অপরাধ করেন তাহলে পুলিশ তাকে সহজে শনাক্ত করতে পারবে।

৩. আগে তিনি কোথায় কাজ করেছেন তার বিস্তারিত তথ্য নিন এবং কাজ ছাড়ার কারণ জানার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে আগের কাজের ঠিকানায় যোগাযোগ করে তার তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন।

৪. কাজের বুয়া/কাজের লোকের পরিবারের তথ্য নিন। তার স্থায়ী ঠিকানা ও পরিবারে কে কে আছে তা জানার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে তার স্থায়ী ঠিকানায় যোগাযোগ করে দেখতে পারেন, তিনি আসলেই ওই ঠিকানায় বসবাস করেন কি না। ডিএমপি বলছে, এত কিছু খোঁজখবর অনাবশ্যক মনে হতে পারে। কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি হলে তখন আফসোসের অন্ত থাকবে না।

৫. বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরীর সব মানুষের তথ্য সংরক্ষণের কাজ করছে। ডিএমপির নির্ধারিত তথ্য ফরমে আপনার কাজের বুয়া/কাজের লোকের তথ্য পূরণ করে থানায় জমা দিন।

কাজের বুয়া/কাজের লোক নিয়োগের পরে যা করবেন
১. নিয়োগের পর তার গতিবিধি লক্ষ্য করুন। তার চালচলনে আপনি বুঝতে পারবেন তিনি আসলে কেমন ব্যক্তি।

২. বাসার মেইন গেটে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে পারেন। এতে আপনার বাসায় কোনো অপরিচিত লোকের আনাগোনা হচ্ছে কি না তা দেখতে সহজ হবে। প্রয়োজনে ঘরের ভেতরেও সিসি ক্যামেরা লাগানো যেতে পারে, যাতে আপনার অনুপস্থিতিতেও কাজের বুয়ার কর্মকাণ্ড মনিটর করতে পারেন।

৩. বাসায় মূল্যবান জিনিসপত্র, স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা কাজের বুয়া/কাজের লোকের অগোচরে রাখুন। আপনার লকারের চাবি সবসময় আপনার কাছে রাখার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে যে রুমে লকার/আলমারি রয়েছে সে রুম আলাদাভাবে লক করে রাখুন।

৪. বাড়িতে কাজের বুয়া/কাজের লোককে একা রেখে সবাই বাড়ি ছেড়ে যাবেন না। শিশু রেখে গেলে সঙ্গে আরও একজনকে রাখুন। কোনো অবস্থায়ই শিশুকে একা রেখে যাবেন না।

৫. কাজের বুয়ার চাহিদা বোঝার চেষ্টা করুন। তাতে তিনি লোভী কি না জানতে সহজ হবে।

৬. সন্দেহজনক কারও সঙ্গে কাজের বুয়া মোবাইলে কথা বলে কি না অথবা তার কাছে সন্দেহজনক কেউ দেখা করতে আসে কি না এ বিষয়ে লক্ষ্য রাখুন।

৭. বাড়িতে গ্যাসের চুলা, ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশ ব্যবহারে কাজের বুয়া/কাজের লোক সতর্ক রয়েছে কি না লক্ষ্য করুন। অসতর্কতার ফলে যে কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

৮. কাজের লোক/বুয়াকে নিয়ে কোথাও ভ্রমণে গেলে সবসময় সঙ্গে সঙ্গেই রাখুন। তিনি হারিয়ে গেলে বা কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আপনাকেই বিড়ম্বনায় পড়তে হবে।

৯. আপনার বাসার কাজের লোক/বুয়ার সঙ্গে মানবিক আচরণ করুন।

ডিএমপি জানায়, আপনার সচেতনতাই রুখতে পারে কাজের বুয়া/কাজের লোকের অপরাধের তৎপরতা। কাজের বুয়া/কাজের লোককে অতি বিশ্বাস না করাই শ্রেয়। তাদের নজরদারিতে রাখুন আপনার স্বার্থেই। আপনার যে কোনো প্রয়োজন ও সমস্যায় যোগাযোগ করুন নিকটস্থ থানা বা ফাঁড়ি পুলিশের সঙ্গে।

এছাড়া গৃহকর্মী নিয়োগে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছয়টি সুপারিশ করেছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি পিবিআই সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব সুপারিশ তুলে ধরেন পিবিআই অরগানাইজড ক্রাইম ইউনিটের (উত্তর) পুলিশ সুপার আহসান হাবীব পলাশ। ধানমন্ডির এক বাসায় গৃহকর্মীর হাতে জোড়া খুনের একটি মামলার তদন্ত শেষে এ সুপারিশ তুলে ধরে সংস্থাটি।

টিটি/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।