আলিয়া মাদরাসা সুরক্ষা কমিটির ৫ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৯ পিএম, ২১ মার্চ ২০২২

সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়াকে বাঁচানোর জন্য পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে মাদরাসাটির সুরক্ষা কমিটি।

সোমবার (২১ মার্চ) সাড়ে ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া ২৪৩ বছরের পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৭৮০ সালের ১ অক্টোবর কলকাতা শহরের বৈঠকখানা রোডের একটি ভাড়া বাড়িতে এ প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ডটি পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। তখনই কলকাতা আলিয়া মাদরাসার আসবাবপত্র, কাগজপত্র দুই ভাগে ভাগ করে স্বাধীন পাকিস্তানের অংশ পূর্ব পাকিস্তানে নিয়ে আসা হয়। আজ বকশিবাজারে সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া, কোলকাতা আলিয়া মাদরাসার অংশ ও স্মৃতি। এখানে এখন ১২ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

তারা বলেন, আজ এ মাদরাসা ষড়যন্ত্রের শিকার। আওয়ামী লীগ সরকারের মধ্যে লুকিয়ে থাকা কিছু সংখ্যক নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী এ ষড়যন্ত্র করছে। তারা মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ভবন নির্মাণের নামে হোস্টেল সুপার ও হোস্টেল সহ-সুপারের বাসভবন বিক্রির টেন্ডার দিয়ে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে নিলামে দিয়েছে।

বক্তারা বলেন, মাদরাসা ছাত্রাবাস থেকে ছাত্রদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছিল। পরে ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে কর্তৃপক্ষ হল খুলে দিতে বাধ্য হয়েছে। মাদরাসার একাডেমিক প্রধান মাওলানা প্রফেসর আবদুল মান্নান সাহেব ও হোস্টেল সুপার মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান সাহেবকে ওএসডি করা হয়েছে। আন্দোলনরত ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

‘আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে জন্য সরকারের কাছে কী অন্য কোথাও জায়গা নেই। আমরা মনে করি এটি একটি ষড়যন্ত্র, গোটা আলিয়া মাদরাসা শিক্ষাকে ধ্বংস করার প্রথম পদক্ষেপ এটি। তারা মূলত আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা বন্ধ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

আলিয়া মাদরাসা সুরক্ষা কমিটি ৫ দফা দাবিগুলো হলো-

১. বর্তমান অধ্যক্ষের আর্থিক (তদন্তকৃত) দুর্নীতির কারণে তাকে চাকরীচ্যুত করতে হবে ও বিচারের আওতায় আনতে হবে।

২. মাদরাসার হল সুপার ও সহ-হল সুপারের বাসভবন নিলাম ডাকার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।

৩. ছাত্রদের নামে করা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

৪. মাদরাসা বোর্ড, জেল সুপার ও সিটি করপোরেশনে দখল করা আলিয়া মাদরাসার জমি ফেরত দিতে হবে।

৫. কেন্দ্রীয় জেলখানার পরিত্যক্ত জমি সরকারি মাদরাসা-ই- আলিয়ার নামে বরাদ্দ দিয়ে আরও হল ও একাডেমিক ভবন নির্মাণ করতে হবে।

মানববন্ধনে আলিয়া মাদরাসা সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আবদুছ ছবুর মাতুব্বরসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরএসএম/আরএডি/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]