‘বহুমাত্রিক ব্যবহারে দ্রুত নিঃশেষ হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানি’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩২ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০২২

বহুমাত্রিক ব্যবহারের ফলে ভূগর্ভস্থ পানি দ্রুত নিঃশেষ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।

রোববার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর পানি ভবনে ‌বিশ্ব পানি দিবস উদযাপন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে ভূগর্ভস্থ পানির মূল ব্যবহার খাবার পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, সেচকাজ এবং শিল্পক্ষেত্রে। ভূগর্ভস্থ পানির বহুমাত্রিক ব্যবহারের ফলে এর ওপর আমাদের নির্ভরশীলতা বাড়ছে। সম্পদটি দ্রুত নিঃশেষ হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত পুনর্ভরণ হচ্ছে না। ফলে জনসাধারণের সুপেয় পানি প্রাপ্যতা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

জাহিদ ফারুক বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির নিরাপদ অঞ্চল সীমা নির্ধারণের লক্ষ্যে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নওগাঁ জেলায় প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় মৌজা পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ পানির অবস্থান নিরূপণ করে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হবে। পর্যায়ক্রমে সব জেলায় ভূগর্ভস্থ পানির নিরাপদ অঞ্চল সীমা নির্ধারণের লক্ষ্যে মৌজা পর্যন্ত ম্যাপিংয়ের ব্যবস্থা করার জন্য প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর জন্য ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য জনসাধারণকে উৎসাহিত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশে সেচ ব্যবস্থার ৮০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরশীল।

প্রতি বছর ভূগর্ভ থেকে ৩০ দশমিক ২১ ঘন কিলোমিটার পানি উত্তোলন করা হয় যার ৮৬ শতাংশই ব্যবহৃত হয় কৃষির সেচ কাজে। এই মাত্রাতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি সেচ কাজে ব্যবহারের ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খরা মৌসুমে সেচ কাজে ব্যবহৃত গভীর ও অগভীর নলকূপগুলো পানি সংকটের মুখে পড়ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ৬৪ জেলার ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এক লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ সুবিধা প্রদান করা সম্ভব হয়েছে। ডেল্টা প্ল্যানের আওতায় দেশের ৬৪টি জেলায় প্রায় ৪ হাজার ৪৩৯ কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন করা হচ্ছে। ফলে ১০০টি ছোট নদী, ৩৯৬টি খাল ও ১৫টি জলাশয় পুনরুজ্জীবিত হবে। জলাশয়, খাল ও নদীর মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপিত হবে। শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের জন্য পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে, নাব্য বৃদ্ধি পাবে এবং বন্যার প্রকোপ হ্রাস পাবে।

জাহিদ ফারুক আরও বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে আনুমানিক ৫ লাখ ২০ হাজার হেক্টর এলাকায় জলাবদ্ধতা, বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বিপর্যয় হতে জনসাধারণের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদানের ফলে বার্ষিক প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টন ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্যায়ে ২১২টি ছোট নদী, ২ হাজার ৪টি খাল ও ৯৯টি জলাশয় পুনঃখনন করা হবে যার মোট দৈর্ঘ্য ১৩ হাজার ৮৪৩ দশমিক ২৯ কিলোমিটার। দেশে ১৩৭টি সেচধর্মী প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ৬৫ দশমিক ১২ লাখ হেক্টর জমিকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও নিষ্কাশন সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এতে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১১১ লাখ টন খাদ্যশস্য উৎপাদিত হচ্ছে।

এ সময় পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।

আরএমএম/এমএইচআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।