টোব্যাকো কোম্পানিতে সরকারের বিনিয়োগ প্রত্যাহারের আহ্বান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৫৩ পিএম, ১৪ মে ২০২২

তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাক মুক্ত করতে হলে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানিতে থাকা সরকারের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিতে হবে। একই সঙ্গে সমন্বিত ও কার্যকর তামাক কর নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে।

শনিবার (১৪ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে তামাকজাত পণ্যের কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অধিকার-ভিত্তিক গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা ভয়েস গবেষণা ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ’র সভাপতি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমদ।

বাংলাদেশে তামাক কর নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে তামাক কোম্পানিগুলোর হস্তক্ষেপের ধরন বোঝার জন্য সাংবাদিক, নীতি নির্ধারক, গবেষক ও তামাক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাজ করেন এমন ২৩ জনের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয় ২০২১ সালের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে।

সভায় বক্তারা বলেন, তামাক মুক্ত দেশ বাস্তবায়ন করতে হলে তামাক কোম্পানির লাভের রাজস্ব আয়ের চেয়ে জনস্বাস্থ্যকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্যে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানিতে থাকা সরকারের সব শেয়ার বিক্রি করে দিতে হবে ও তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে।

ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে বলেন, কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানির অবৈধ হস্তক্ষেপের অনেক তথ্য প্রমাণ বের হয়ে এসেছে গবেষণায়।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, তামাক কর নীতিমালা সংস্কার প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানিগুলোকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ততক্ষণ পর্যন্ত তামাক পণ্যের ওপর নতুন করে কর নির্ধারণ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তামাক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কোনো চুক্তিতে না আসে। এর কারণ হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে তামাক কোম্পানির অবদান উল্লেখ করা হয়।

তারা আরও বলেন, গবেষণা ফলাফলে পাওয়া যায়- বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও উচ্চপদস্থ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তামাক কোম্পানিগুলোর খুব ঘনিষ্ঠ ও পারস্পরিক লাভের সর্ম্পক রয়েছে। তামাক কোম্পানিগুলো কর সংস্কার প্রক্রিয়ায় জড়িত এনবিআর ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের নগদ এবং বিভিন্ন ধরনের উপহার দিয়ে থাকেন। এমনকি তাদের জন্য বিদেশ ভ্রমণের ব্যবস্থাও করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ সরকার তামাক কোম্পানির বিভিন্ন অনুদানসহ তাদের কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্বের (সিএসআর) কাজকর্মকে সমর্থন দিয়ে থাকে।

‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা তাদের পাবলিক ইমেজ বাড়ানোর জন্য ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানিসহ অন্যান্য তামাক কোম্পানির বিভিন্ন সিএসআর কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে থাকেন। তামাক কোম্পানি ও সরকারের মধ্যে বেশ কিছু স্বার্থের সংঘাত রয়েছে। যেমন, বাংলাদেশ সরকার ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের (বিএটিবি) প্রায় ১০ শতাংশ শেয়ারের মালিক। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের ১০ জন বোর্ড সদস্যদের মধ্যে ছয়জন বোর্ড সদস্য বর্তমান অথবা সাবেক সরকারি কর্মকর্তা।’

পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমদ বলেন, দেশকে তামাকমুক্ত করতে হলে প্রথমেই সরকারকে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানিতে থাকা সব শেয়ার বিক্রি করে দিতে হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তামাকের একক সুনির্দিষ্ট কর কাঠামো তামাক ব্যবহারকারীদের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস ও তামাক ব্যবহার কমাতে অধিক কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ সরকারের অবসরপ্রাপ্ত সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সভাপতি নাসিরুদ্দিন আহমেদ বলেন, তামাকজাত পণ্যের কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানিগুলো অনেক আগে থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে হস্তক্ষেপ করে আসছে। এমনকি লকডাউনের মধ্যেও তারা বাংলাদেশের ‘প্রয়োজনী পণ্য আইন ১৯৫৬’ নামক একটি পুরাতন আইনের প্রশ্রয় নিয়ে ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে লবিং করে অনুমতি নিয়ে তাদের উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং বিতরণ নিয়মিত রাখেন।

তিনি বলেন, এই আইনটিতে সিগারেটের মতো ক্ষতিকর পণ্যকেও বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ, অধ্যাপক সিটিএফকের সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার আতাউর রহমান মাসুদ ও সিটিএফকের গ্রান্টস ম্যানেজার আবদুস সালাম মিয়া, উন্নয়ন গবেষক ফজলুল হক মজুমদার ও শারমিন রিনি প্রমুখ।

এমওএস/আরএডি/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]