শিক্ষা অধিদপ্তরে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, গ্রেফতার এক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৭ পিএম, ১৪ মে ২০২২

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক গ্রেড-১৬’ পদে নিয়োগ পরীক্ষার (নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে মো. সুমন জমাদ্দার (৩১) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। এ সময় তার কাছ থেকে দু’টি প্রবেশপত্র, একটি উত্তরপত্র, একটি প্রশ্নপত্র (ক-সেট) ও একটি মোবাইল জব্দ করা হয়।

শনিবার (১৪ মে) রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) যুগ্ম-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের 'অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক গ্রেড-১৬' পদে এমসিকিউয়ের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সুমন জমাদ্দার নামের একজনকে গ্রেফতার করেছি। এ বিষয়ে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত জানা যাবে।

গোয়েন্দা তেজগাঁও জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. শাহাদত হোসেন সুমা বলেন, গ্রেফতার সুমন ইডেন মহিলা কলেজে নিয়োগ পরীক্ষা দেওয়ার সময় তার মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ৭০টি উত্তর দেখে লিখছিলেন। তার বিরুদ্ধে ডিএমপির লালবাগ থানায় মামলা হয়েছে। তাকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশফাঁসচক্রের অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে ইডেন মহিলা কলেজের প্রধান সহকারী মো. আব্দুল খালেক বলেন, এ ঘটনায় লালবাগ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি বলেছেন, ইডেন মহিলা কলেজ কেন্দ্রের দুই নম্বর ভবনের ২২৩৭ নম্বর কক্ষে শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা (এমসিকিউ) চলাকালীন একজন শিক্ষার্থী তার কাছে থাকা প্রবেশপত্রের পেছনে লেখা উত্তর দেখে পূরণ করছিলেন। তখন ডিউটিরত শিক্ষিকা পরীক্ষার্থীর কাছে থাকা দুটি প্রবেশপত্র যাচাই করে দেখেন একটি প্রবেশপত্রের পেছনে ছোট আকারে উত্তর লেখা। এরপর তিনি বিষয়টি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ জানান। পরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরীক্ষার্থী জানায়, তিনি পটুয়াখালীর সাইফুল, টাঙ্গাইলের খোকনসহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনের সহায়তায় হোয়াটঅ্যাপের মাধ্যমে তার মোবাইল নম্বর উত্তর পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিয়োগ পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য জাগো নিউজকে বলেন, আমরা প্রশ্নফাঁস ও একজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যেহেতু অফিস বন্ধ রয়েছে— তাই অফিস খোলার পর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শুক্রবার (১৩ মে) দুপুরে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ৫১৩টি পদে নিয়োগে এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১ লাখ ৮৩ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন।

টিটি/এমএএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]